সংবাদ শিরোনাম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: উৎসব ও বর্জনের দোলাচলে আইনজীবীদের ‘ভোটযুদ্ধ’ বুধবার

 প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: উৎসব ও বর্জনের দোলাচলে আইনজীবীদের ‘ভোটযুদ্ধ’ বুধবার

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​বৈশাখের শেষ প্রান্তে  তপ্ত রোদেও হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এখন অন্যরকম এক উত্তেজনা। দেশের বিচারঙ্গনের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম চারপাশ। বুধবার সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী এই ভোটগ্রহণ। তবে এবারের নির্বাচন কেবল পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর আইনি মারপ্যাঁচে এটি রূপ নিয়েছে এক ভিন্নমাত্রার লড়াইয়ে।

​গত সপ্তাহ দেড়েক ধরে আদালত পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল মিছিলের শব্দ আর গগনবিদারী স্লোগান। সুপ্রিম কোর্ট বার ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি সরব দেখা গেছে নীল প্যানেলের বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। কড়া রোদে ঘাম ঝরিয়ে তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। পিছিয়ে নেই জামায়াতপন্থীদের সবুজ প্যানেল কিংবা এনসিপির লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরাও। যদিও তাদের প্রচারণায় নীল প্যানেলের মতো অতটা জৌলুস ছিল না, তবে ভেতরে ভেতরে তারা নিজেদের ঘর গোছাতে এবং সাধারণ ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

​এবারের নির্বাচনে মোট ১৪টি পদের বিপরীতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের মধ্যে। বিশেষ করে সভাপতি পদে বিএনপির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং জামায়াতের আব্দুল বাতেনের মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে সম্পাদক পদের হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ভোট ভাগাভাগির এক বহুমুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

​তবে এই উৎসবের আবহে বিষাদের ছায়া ফেলেছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অনুপস্থিতি। নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির সহযোগী ৪১ জন আইনজীবীর মনোনয়ন বাতিল করায় তারা এবার নির্বাচনী মাঠের বাইরে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন—এমনটাই দাবি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের। মনোনয়নবঞ্চিত আইনজীবী মোকছাদুল ইসলামের কণ্ঠে ঝরল ক্ষোভ আর হতাশা। তিনি বলেন, 'আইনজীবী হিসেবে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। আমরা সাধারণ সদস্যদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছি।'

​পাল্টা যুক্তিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম সজল সাফ জানিয়ে দিলেন, আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের দোসরদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে নির্বাচনের জৌলুস কমবে না বরং দীর্ঘ সময় পর সুপ্রিম কোর্ট একটি স্বচ্ছ এবং সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট দেখবে।

​বিগত বছরগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন মানেই ছিল মারামারি, ব্যালট ছিনতাই কিংবা ফল জালিয়াতির এক তিক্ত ইতিহাস। কালো কোট পরা মানুষদের এই অঙ্গনে পুলিশের বুট আর লাঠিচার্জের দৃশ্য এখনো অনেকের স্মৃতিতে দগদগে। তবে এবার সেই কালিমালিপ্ত ইতিহাস পেছনে ফেলার স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ আইনজীবীরা। ১৩ ও ১৪ মের এই মহাযজ্ঞ শেষে একটি পরিচ্ছন্ন ফলাফল আর যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশায় আজ ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়াবেন হাজারো আইনজীবী। আদালতের বারান্দায় এখন কেবল একটিই গুঞ্জন—কে ধরছেন দেশের সর্বোচ্চ বারের হাল?