সংবাদ শিরোনাম

​সীমান্তে কড়া নজরদারি, পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঘোষণা

 প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

​সীমান্তে কড়া নজরদারি, পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একগুচ্ছ ঘোষণা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পশুর হাটের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

​সীমান্ত সুরক্ষা ও কূটনৈতিক তৎপরতা

​সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনার তুঙ্গে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে কোনো প্রকার ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ যেন না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা। সীমান্তে বিজিবি-কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​পশুর হাটে চাঁদাবাজি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’

​কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একশ্রেণির অসাধু চক্র চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। মন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে ইতিমধ্যে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন:

​"পশুর হাটে বা পশু পরিবহনে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

​চাঁদাবাজির শিকার হলে বা কোনো তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে ১৬৬১১৩ হটলাইন নম্বরে কল করার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

​মহানগরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা

​এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি পশুর হাট বসবে। প্রতিটি হাটে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। ঈদের আগে ও পরের সাতদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ কাজ করবে।

​চামড়া শিল্প ও শ্রমিকদের অধিকার

​কোরবানির পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে লবণ সরবরাহে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে ঈদের আগেই তৈরি পোশাক খাতের (গার্মেন্টস) সকল শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ সম্মত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

​যাতায়াত ও জননিরাপত্তা

​নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং উৎসব পালন করতে পারেন, সেজন্য হাইওয়ে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেললাইন, বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চ ঘাটে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি যানজট নিরসনে কাজ করবে বিশেষ টিম।

​সব মিলিয়ে, একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ঈদুল আজহা উপহার দিতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।