সংবাদ শিরোনাম

কাঁটাতারের শৃঙ্খল ভেঙে এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়: প্রতিবেশীর প্রতি কড়া বার্তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টারউপদেষ্টার

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

কাঁটাতারের শৃঙ্খল ভেঙে এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়: প্রতিবেশীর প্রতি কড়া বার্তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টারউপদেষ্টার

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​বাংলার আকাশ-বাতাসে আজ এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সুর। যে সীমান্তে একসময় লাঞ্ছনা আর ভয়ের ছায়া লেগে থাকত, সেই সীমানা প্রাচীর নিয়ে এবার সোজাসাপ্টা ও তেজোদীপ্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কিংবা বর্তমান সরকার—কেউই আর কাঁটাতারের ভয় পায় না।

​উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের সমীকরণ এখন আর কেবল একপাক্ষিক নয়। তিনি অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে সীমান্তে যেভাবে এ দেশের সাধারণ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কিংবা কিশোরী ফেলানীর মতো নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সেই বীভৎস অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না। হুমায়ুন কবিরের কণ্ঠে ছিল চরম দৃঢ়তা—বাংলাদেশ এখন আর কোনো 'গোলামির রাষ্ট্র' নয় যে মুখ বুজে সব সহ্য করবে। সীমান্তে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুস্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।

​আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল মেরুকরণে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি শান্তির আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সবসময় সংলাপের মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। তবে এই শান্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যার দায় কাঁধে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এই ‘সন্ত্রাসীকে’ কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তাও লুকাননি তিনি। ভারত সরকারকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার নাশকতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ না পান। এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

​পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া ও নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির অত্যন্ত পেশাদার অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক খেলায় হস্তক্ষেপ করার কোনো অভিপ্রায় বাংলাদেশের নেই।

​পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই ভাষণ কেবল একটি কূটনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি ৫ আগস্ট পরবর্তী এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। যেখানে মাথা নত করার সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলে আত্মমর্যাদার এক নতুন দেয়াল তোলা হয়েছে, যা সীমান্তের কাঁটাতারের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। ইনশাআল্লাহ, সামনের দিনগুলোতে সীমানা হবে বন্ধুত্বের, শোষণের নয়—এমনই এক আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি।