তপ্ত রোদে মেঘের গর্জন: ১৩ জেলায় কালবৈশাখীর হানা ও ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন তপ্ত রোদে জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই আকাশের কোণে জমছে আশঙ্কার ঘনঘ মেঘ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ সোমবার রাতের মধ্যেই দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে কালবৈশাখীর ঝাপটা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার, কিংবা সবুজ শ্যামল সিলেট—দেশের ১৩টি অঞ্চলের জনপদে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ধাবিত হতে পারে উন্মত্ত হাওয়া। এই আকস্মিক ঝড়ের আশঙ্কায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ বিকেলের গড়িয়ে আসা আলো যখন ম্লান হতে শুরু করেছে, তখনই আবহাওয়া অধিদফতর থেকে আসে এই বিশেষ সতর্কবার্তা। বার্তায় বলা হয়েছে, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে দিবাগত রাত ১টার মধ্যবর্তী সময়ে প্রকৃতি তার রুদ্ররূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের সমতলে যেমন বাতাসের তীব্রতা অনুভূত হবে, তেমনি উপকূলীয় জনপদ খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারেও আছড়ে পড়তে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বাদ যাবে না পাহাড় আর চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলও। পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা এই ঝড়ের সঙ্গী হবে বিদ্যুৎ চমকানো গর্জন আর ঝুম বৃষ্টি।
নদীবেষ্টিত এই জনপদে নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তাল ঢেউ আর ঝোড়ো বাতাসের মুখে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই ঝড় কেবল ধূলিঝড় হয়েই থেমে থাকবে না; সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোর দু-এক জায়গায় বৃষ্টির ছোঁয়ায় কিছুটা স্বস্তি নামতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
অন্যদিকে, প্রকৃতির এই ক্ষণিক উন্মাদনার মাঝেও তাপমাত্রার পারদ খুব একটা নিচে নামার সুখবর নেই। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে কোথাও ঝোড়ো বৃষ্টি প্রশান্তি আনলেও, অধিকাংশ এলাকাতেই ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। আজ রাতের এই প্রাকৃতিক আবহাওয়া পরিবর্তনের মুখে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নৌপথে যাতায়াতকারীদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। দিনশেষে মেঘ-বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা যেন কোনো জানমালের ক্ষতি না করে, এখন সেই কামনাই করছে সাধারণ মানুষ।