মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ওমানের নেতৃত্বের প্রশংসা শামা ওবায়েদের: দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর বাংলাদেশের
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মরুভূমির দেশ ওমানের সাথে বাংলার শ্যামল পলিমাটির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই মৈত্রীর বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল হাজী ইসমাইল আল বালুশি। রোববার (১০ মে) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় উঠে এসেছে দুই দেশের বহুমাত্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত।
বৈঠকের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ওমানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওমান যে গঠনমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে, তা বিশ্বদরবারে সমাদৃত। ওমানকে কেবল একটি বন্ধু রাষ্ট্র নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম কৌশলগত অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল জনশক্তি রপ্তানি এবং অভিবাসন ইস্যু। প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার বৈধ পথে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ চায় তার কর্মীরা যেন কেবল শ্রমিক হিসেবে নয়, বরং কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি হিসেবে ওমানের অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এতে করে ওমানের উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও টেকসই রূপ পাবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উভয় পক্ষই কেবল জনশক্তি রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। অর্থনীতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংস্কৃতি বিনিময় এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সেতুবন্ধন তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রদূত জামিল হাজী ইসমাইল আল বালুশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং ওমানের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি জানান, ওমান সরকার বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহী।
বিকেলের এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি—উভয় লক্ষ্যেই ঢাকা ও মাস্কাট কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে বৈঠকটি সমাপ্ত হয়।