সংবাদ শিরোনাম

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: উপকূলবাসীর স্বপ্নপূরণে মহাপরিকল্পনা

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: উপকূলবাসীর স্বপ্নপূরণে মহাপরিকল্পনা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেবল একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি নদীমাতৃক বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই মেগা প্রকল্পের কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

​গত রবিবার (১০ মে) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) প্রকৌশল বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ক্ষয়-প্রতিরোধী উপকূলীয় অবকাঠামো’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব আশার কথা শোনান। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পানির সংকট নিরসন ও লবণাক্ততা রোধে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

​সেমিনারের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে উঠে আসে উপকূলীয় মানুষের লড়াইয়ের গল্প। পানিসম্পদমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমাদের উপকূলের মানুষ প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। তাদের এই লড়াইকে সহজ করতে এবং নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।" তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক প্রসাধন নয়, বরং কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রকৌশলীদের সুচিন্তিত পরামর্শকেই এই অবকাঠামো নির্মাণের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

​আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয় রোধে কেবল গতানুগতিক নির্মাণ নয়, বরং আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ‘ডিজাইন’ বা নকশার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়তে ব্যাপক গবেষণার বিকল্প নেই।

​পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানির স্তর ধরে রাখা সম্ভব হবে, যা শুধু কৃষিকাজে বিপ্লব আনবে না, বরং সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষা ও লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও ঢাল হিসেবে কাজ করবে। এক সময়ের খরস্রোতা পদ্মা আর তার শাখা নদীগুলোর যৌবন ফিরিয়ে দিতে এই ব্যারেজ হবে এক অনন্য মাইলফলক।

​সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা একমত হন যে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় এই প্রকল্প কেবল একটি নির্মাণ কাজ নয়, বরং এটি সাত কোটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে যেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনি অবসান ঘটবে উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাস। দিনের শেষে এই ব্যারেজ হয়ে উঠবে এক সমৃদ্ধ ও স্থিতিস্থাপক বাংলাদেশের প্রতীক।