সংবাদ শিরোনাম

মমতার আঁচল ও হৃদয়ের স্পন্দন: আজ বিশ্ব মা দিবস

 প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মমতার আঁচল ও হৃদয়ের স্পন্দন: আজ বিশ্ব মা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর তিন ভুবনে নাই।” কবি কাজী কাদের নেওয়াজের এই অমোঘ সত্যটি আজ প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে নতুন করে অনুরণিত হচ্ছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার, ১০ মে— বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও অকৃত্রিম সম্পর্কের নাম ‘মা’। সেই মমতাময়ী জননীকে বিশেষভাবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আজ পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিনটি।

​এক চিরন্তন আশ্রয়ের গল্প

​মা মানেই এক প্রশান্তির দ্বীপ। শৈশব থেকে বার্ধক্য, প্রতিটি পদক্ষেপে মা-ই হন সন্তানের শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক। একজন মা তার গর্ভে সন্তান ধারণ থেকে শুরু করে তাকে তিলে তিলে বড় করে তোলার পেছনে যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তার কোনো পার্থিব মূল্য হয় না। জন্মের পর শিশুর প্রথম উচ্চারণ থেকে শুরু করে জীবনের কঠিনতম দুর্যোগে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে মা নামের ওই স্নেহময়ী নারীর আঁচলই সবার আগে মনে পড়ে। আনন্দ-বেদনা, ভয় কিংবা উদ্দীপনা—মানুষের প্রতিটি মানবিক অনুভূতিতে মিশে থাকেন মা। সন্তানের প্রতি মায়ের এই ভালোবাসা স্থান-কাল-পাত্রভেদে অমলিন।

​ইতিহাসের ধূলিকণা মাখা দীর্ঘ পথচলা

​মা দিবসের বর্তমান রূপটির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস। যদিও মায়েদের সম্মান জানানোর রীতিটি অনেক প্রাচীন। ধারণা করা হয়, প্রাচীন গ্রিসে মাতৃরূপী দেবী ‘সিবেল’ এবং রোমানদের দেবী ‘জুনো’র আরাধনা থেকে এই উৎসবের বীজ বপন করা হয়েছিল। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে একটি দিন উৎসর্গ করা হতো মায়েদের জন্য। তবে আধুনিক মা দিবসের পটভূমি রচিত হয় উনিশ শতকের আমেরিকায়।

​আমেরিকার গৃহযুদ্ধের বিভীষিকা যখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, তখন শান্তির প্রত্যাশায় ১৮৭০ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড হোই লিখলেন তার বিখ্যাত ‘মা দিবসের ঘোষণাপত্র’। সেই চেতনার মশাল হাতে তুলে নিয়েছিলেন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস। তিনি চাইলেন মায়েরা যেন শুধু ঘরের কাজে নয়, সমাজ সংস্কারেও এগিয়ে আসেন। ১৯০৫ সালে আনা রিভিজের মৃত্যুর পর তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস মায়ের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং সরকারি স্বীকৃতির লড়াই শুরু করেন। অবশেষে ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার এক গির্জায় প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়। দীর্ঘ প্রচারণার ফলস্বরূপ ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকেই এই দিনটি বিশ্বজুড়ে মাতৃত্বের বন্দনায় মুখর হয়ে ওঠে।

​প্রযুক্তির যুগেও অমলিন অনুভুতি

​আজকের যান্ত্রিক পৃথিবীতেও মায়ের আবেদন একটুও ম্লান হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট আয়োজনে আজ মায়ের জয়গান গাবে সন্তানরা। কেউ হয়তো একগুচ্ছ সাদা কার্নেশন ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেবেন মায়ের ঘর, কেউ বা মায়ের প্রিয় কোনো খাবার রান্না করবেন নিজ হাতে। আবার প্রবাসী কিংবা কর্মব্যস্ত সন্তানরা হয়তো একটু সময়ের জন্য ভিডিও কলে মায়ের মুখটি দেখে খুঁজে নেবেন প্রশান্তি। তবে মা দিবসের প্রকৃত সার্থকতা কেবল একটি দিনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিটি দিনেই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মমতা বজায় রাখাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

​মা কেবল একটি শব্দ নয়, মা এক জীবন্ত ইতিহাস, এক ত্যাগের নাম। আজ বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়ের চরণে প্রণতি— যাদের হাসিতে ফুটে ওঠে পরম স্বর্গ।