একটি লাল র্যাশ ও নিভে যাওয়া শত শত প্রদীপ: হাহাকারের নাম যখন ‘হাম’
প্রতিবেদক ঢাকা
পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে মালিহাকে নিয়ে যখন তার বাবা হাসপাতালের করিডোরে দৌড়াচ্ছিলেন, তখনো ভাবেননি সামান্য জ্বর আর গায়ের ওই লালচে দানাগুলো এতটা ভয়ানক হয়ে উঠবে। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মালিহার নিথর দেহ নিয়ে তাকে বাড়ি ফিরতে হলো। মালিহা একা নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আরও ১৬টি পরিবার তাদের আদরের সন্তানকে হারিয়েছে এই ঘাতক ‘হাম’-এর ছোবলে।
এক দিনে ১৭টি প্রাণের বিয়োগান্তক বিদায়
সোমবার বিকেলের গুমোট আবহাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনটি যখন সামনে এলো, তখন দেখা গেল এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে রেকর্ড ১৭ জন শিশু। এটি এই মৌসুমের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
পরিসংখ্যান যখন কান্নার নাম
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই বিষাক্ত দহন ৪ মে পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে মোট ৩১১টি শিশুর প্রাণ। সংখ্যাগুলো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রতিটি সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে একেকটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প।
আক্রান্তের মিছিল: গত দেড় মাসে প্রায় ৪১,৭৯৩ জন শিশু সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫,৪৬৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের দৃশ্যপট: বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলো যেন শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১,০২৬ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ২৮ হাজারেরও বেশি শিশু গত দেড় মাসে হাসপাতালের বিছানায় জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে।
কেন এই মড়ক?
চিকিৎসকরা বলছেন, হামকে আমরা যতটা সাধারণ মনে করি, এটি আসলে তার চেয়েও বেশি সংক্রামক। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া, পুষ্টির অভাব এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে নিতে দেরি করা—এই তিন কারণেই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।
শেষ কথা
মালিহার মতো আর কোনো শিশু যেন অকালে ঝরে না পড়ে, সেজন্য এখন প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা। জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলেই আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, যা আশার আলো দেখায়। কিন্তু ১৭টি নিথর দেহের স্তব্ধতা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে—সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
আপনার শিশুকে টিকা দিন, সুরক্ষিত রাখুন আগামীর ভবিষ্যৎ।