বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে জার্মানি ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের পৃথক বৈঠক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ
ঢাকা, ২৯ চৈত্র (১২ এপ্রিল):
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত Dr. Rudiger Lotz এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Linus Ragnar Weeks পৃথক বৈঠক করেছেন।
আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের একটি প্রধান গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা শুরু করেছে।
এসময় তিনি জার্মানিকে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মানির রাষ্ট্রদূত Dr. Rudiger Lotz বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্ভাবনাময় বাজার উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ প্রত্যাশা করেন।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Linus Ragnar Weeks বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। তিনি জানান, সুইডেনের সাথে নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Linus Ragnar Weeks বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অগ্রণী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।