সংবাদ শিরোনাম

মজুত ও উৎপাদন ভালো, তবু চাল আমদানির সিদ্ধান্ত ; শঙ্কায় কৃষকরা

 প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

মজুত ও উৎপাদন ভালো, তবু চাল আমদানির সিদ্ধান্ত ; শঙ্কায় কৃষকরা

প্রতিদিনের দেশ ডেস্ক :

আমন মৌসুমের চাল বাজারে ওঠার সময়ই বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির সুযোগ দেওয়ায় কৃষকস্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি মজুত ও উৎপাদন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের কাছে প্রায় ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যার মধ্যে চালই ১৮ লাখ ৪২ হাজার টনের বেশি। সদ্য সমাপ্ত আমন মৌসুমে চাল উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি। এর আগে আউশ মৌসুমেও উৎপাদন ভালো ছিল।

গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বাড়ায় বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কার কথা জানিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় বেসরকারি চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়। গত রবিবার ২৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন সেদ্ধ চাল আমদানির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

কৃষক ও মিল মালিকদের একটি অংশ বলছে, ভরা মৌসুমে আমদানির ফলে আমনের ন্যায্যমূল্য ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি সদ্য শুরু হওয়া বোরো মৌসুমের ধানের দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারের হাতে বড় মজুত এবং সামনে বোরো মৌসুম আসছে—এ অবস্থায় চাল আমদানির যৌক্তিকতা নেই। এতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা পেতে পারে।

তবে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরু চালের উৎপাদন মূলত বোরো মৌসুমে হয়। বোরোর চাল বাজারে আসতে সময় লাগবে, তাই সরু চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানির প্রয়োজন হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জিরাশাইল ও শম্পা কাটারি জাতের চালের দাম পাইকারিতে সামান্য বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। তবে মাঝারি ও মোটা চালের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

ভরা মৌসুমে আমদানির এই সিদ্ধান্ত বাজার স্থিতিশীল করবে, নাকি কৃষকদের ক্ষতির কারণ হবে—তা নিয়েই এখনো বিতর্ক চলছে।