সংবাদ শিরোনাম

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাণী

 প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ০৬:২২ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাণী

 “প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’ আয়োজন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ বছর ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৪’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় 

পুরস্কার-২০২৫’-প্রাপ্তদের এবং সামাজিক বনায়নের জন্য লভ্যাংশপ্রাপ্ত সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। 

আমাদের প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার অপরিহার্য উপাদান হলো বৃক্ষ। বৃক্ষরাজি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ এবং অক্সিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও বৃক্ষ ও বনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের জলবায়ুকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তুলতে এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রেক্ষিতে ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’-এর এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক হয়েছে বলে আমি মনে করি।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টেকসই বন ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বন সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া বনাঞ্চল পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। উপকূলীয় এলাকাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে সুরক্ষার জন্য সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বনাঞ্চল নির্ভর জনগোষ্ঠীকে বন ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করে বন রক্ষার সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে এবং বনের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে গ্রহণ করা হয়েছে নগর বনায়ন কর্মসূচি। সরকারের এ সকল উদ্যোগকে আরো বেগবান করতে ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আমি আশা করি, বিভিন্ন দেশি প্রজাতির বৃক্ষের সাথে পরিচয় এবং চারা সংগ্রহের জন্য বৃক্ষমেলা অত্যন্ত সহায়ক হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল, সুন্দর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সকলকে অন্ততপক্ষে একটি করে গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।”