সংবাদ শিরোনাম

সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ সংঘর্ষে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ

 প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সাভারে ড্যাফোডিল ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ সংঘর্ষে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ


 সাভার প্রতিনিধি: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

 

ঢাকার সাভারের খাগান এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিটি ইউনিভার্সিটির পুরো ক্যাম্পাস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রবিবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং অন্তত ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সিটি ইউনিভার্সিটি প্রশাসন।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রবিবার সন্ধ্যায় খাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেল-এর সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী সড়কের পাশে বসে থাকার সময় তাদের একজন অসর্তকতাবশত থুতু ফেললে তা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে গিয়ে পড়ে। এতে কথা কাটাকাটি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান হয় বলে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে । 



এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা দলবদ্ধ হয়ে সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হয়। পরে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সোমবার সকাল পর্যন্তও সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আগুনের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে পুড়ে গেছে তিনটি বাস, পাঁচটি মাইক্রোবাস, দুটি প্রাইভেটকারসহ বহু আসবাবপত্র। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক, একাডেমিক ভবন, অফিস কক্ষ, এমনকি বাথরুম পর্যন্ত ভাঙচুরের চিহ্নে ভরে গেছে।


প্রশাসনিক কর্মকর্তা উজ্জ্বল সরকার অভিযোগ করে বলেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। গানপাউডার ব্যবহার করেছে, গেটে আগুন দিয়েছে, এমনকি অ্যাকাউন্টস অফিস লুট করেছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, মধ্যরাতে মেয়েদের হলের গেটে হামলা হয়েছে। ইট ছুড়ে মেরেছে, মেয়েরা আতঙ্কে চিৎকার করছিল। অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা প্রথমে শুধু আত্মরক্ষায় ইট ছুড়েছি, কিন্তু পরের অংশে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে পুড়িয়ে দিয়েছে সব।

সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রাতভর প্রশাসনের কোনো সহায়তা পাননি তারা। সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত বারবার প্রশাসনকে খবর দিয়েছি, কিন্তু কেউ আসেনি। পুরো ক্যাম্পাস তছনছ হয়ে গেছে।

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝামেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক নয়।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, থুতু ফেলার ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। কিন্তু রাতে শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা অগ্রহণযোগ্য। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই।

প্রক্টর শেখ মুহাম্মদ আলিয়া জানান, আমাদের নয়জন শিক্ষার্থী এখনো সিটি ইউনিভার্সিটিতে আটক রয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে ভিতরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।

সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেও পাইনি। এভাবে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে লুটপাট চালাবে, তা অকল্পনীয়। তিনি আরো জানান, ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছে। আমরা চাই উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আলোচনার মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হোক।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সায়েন্স অ্যান্ড আইটি বিভাগের ডিন অধ্যাপক বিমল চন্দ্র দাস বলেন, আমি এই ভাঙচুর দেখে লজ্জিত ও ব্যথিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন কিছু করতে পারে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হওয়া উচিত।