সংবাদ শিরোনাম

আহসান মঞ্জিল

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৫, ০১:৪৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

আহসান মঞ্জিল

আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যাবহৃত হচ্ছে। এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গনি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-র নামানুসারে এর নামকরণ করেন। এর নির্মাণ শুরু ১৮৫৯ সালে সমাপ্তি ১৮৭২ সাল। প্রধান নির্মতা নবাব খাজা আবদুল গণী। ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। প্রতিষ্ঠাতাকাল ১৮৭২। আহসান মঞ্জিল কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছে অতি সম্প্রতি। এখন এটি একটি জাদুঘর।

স্থাপত্যশৈলীঃ

আহসান মঞ্জিল একটি দৃষ্টিনন্দন ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ভবন, যার মধ্যে মুসলিম, ইউরোপীয় এবং স্থানীয় স্থাপত্যের মিশ্রণ রয়েছে। ভবনটি গোলাপী রঙের হওয়ায় এটি "গোলাপি প্রাসাদ" নামেও পরিচিত। ভবনের দুই পাশে দুটি গম্বুজাকৃতি অংশ এবং মাঝখানে একটি বিশাল ডোম আছে। সম্মুখভাগে সুদৃশ্য খিলান ও পিলার রয়েছে। ভিতরে রয়েছে বহু কক্ষ, ডাইনিং রুম, দরবার হল এবং অতিথিশালা।

এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ। মূল ভবনের বাইরে ত্রি-তোরণবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারও দেখতে সুন্দর। একইভাবে উপরে ওঠার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দু’টি মনোরম খিলান আছে যা সবচেয়ে সুন্দর। আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তরে দু’টি অংশ আছে। বৈঠকখানা ও পাঠাগার আছে পূর্ব অংশে। পশ্চিম অংশে আছে নাচঘর ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ। নিচতলার দরবারগৃহ ও ভোজন কক্ষ রয়েছে।

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। আহসান মঞ্জিল ছিল ঢাকার নবাবদের প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র রংমহলটি এক ফরাসি বণিকের নিকট বিক্রি করে দেন। বাণিজ্য কুটির হিসাবে এটি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল। এরপরে ১৮৩৫-এ বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। ১৮৫৯ সালে নবাব খাজা আব্দুল গনি পুরনো একটি ফরাসি কুঠিকে সংস্কার করে এটিকে নবাব বাড়িতে রূপান্তর করেন।  নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান। এটি চূড়ান্তভাবে পূর্ণতা পায় এবং নতুন ভবন নির্মাণের পরে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন আহসান মঞ্জিল। ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল বহু ঐতিহাসিক সভা ও অনুষ্ঠানস্থল। পাকিস্তান আমলে নবাব পরিবারের ক্ষমতা ও অর্থ কমে গেলে ভবনটি জীর্ণ হয়ে পড়ে।

১৮৯৭ সালে ১২ই জুন ঢাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন সফর করেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এটি অধিগ্রহণ করে এবং সংস্কার শুরু করেন। আহসান মঞ্জিলের দক্ষিণের বারান্দাসহ ইসলামপুর রোড সংলগ্ন নহবত খানাটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীকালে নবাব আহসানুল্লাহ তা পুনঃনির্মান করেন।

জাদুঘরের সংগ্রহ:

১৯৯২ সালে সংস্কার শেষে এটি একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়। এখানে রয়েছে: নবাব পরিবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, পোশাক, তৈজসপত্র, পুরাতন ছবি ও চিত্রকর্ম, ব্যবহৃত অস্ত্র ও নৌযান মডেল, নবাবদের চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, পুরাতন ঘড়ি, মঞ্চ, এবং ভিক্টোরিয়ান যুগের সামগ্রী, প্রতিটি কক্ষ একটি নির্দিষ্ট থিমে সাজানো হয়েছে, যেমন নবাবের ব্যক্তিগত কক্ষ, অতিথি কক্ষ, দরবার হল ইত্যাদি।

 দর্শনার্থীদের জন্য  তথ্য: 

এটি সপ্তাহে ছয় দিন  খোলা থাকে। সাধারণত শুক্রবার বন্ধ থাকে।

আহসান মঞ্জিল শুধুমাত্র একটি ভবন নয়, এটি ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক।