সংবাদ শিরোনাম

শ্রীপুরে গণভোট নিয়ে ভোটারদের ভাবনা সংকট-

 প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর

শ্রীপুরে গণভোট নিয়ে ভোটারদের ভাবনা সংকট-

রতন প্রধান, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: 

জাতীয় সংকটের স্থানীয় প্রতিচ্ছবি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে গণভোটের আলোচনা। নির্বাচনকালীন কাঠামো, অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা এই তিন প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই মূলত জাতীয় রাজনীতিতে টানাপোড়েন চলছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের ভাবনায় সেই জাতীয় সংকটেরই স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে।

জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা নতুন নয়। অতীতের একাধিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতা জনগণের মনে প্রশ্ন রেখে গেছে- ভোট কি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা, নাকি সত্যিই মত প্রকাশের কার্যকর মাধ্যম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গণভোটের মতো ধারণা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শ্রীপুরের সাধারণ মানুষও সেই জাতীয় বিতর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তাদের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় বাস্তবতারই প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

শ্রীপুরের গ্রাম ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক জনপদে কথা বলে বোঝা যায়, ভোটারদের বড় অংশ রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে এসে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করেন। তাদের অনেকের কাছে গণভোট একটি ‘চূড়ান্ত সমাধান’ নয়, বরং দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। এটি প্রমাণ করে জাতীয় পর্যায়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; এর প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক উপজেলা পর্যন্ত।

গণভোট নিয়ে কথা হয় শ্রীপুরের স্বনামধন্য ও রাজনৈতিক সচেতন একজন শিক্ষকের সঙ্গে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তিনি বলেন, গণভোট কি সত্যিই এই সংকটের সমাধান দিতে সক্ষম? সংবিধান, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সময়সীমা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য- এই মৌলিক বিষয়গুলো স্পষ্ট না করে যেকোনো গণভোট আয়োজন নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে। শ্রীপুরের সচেতন মহলের মতামতেও এই বাস্তবতাই উঠে এসেছে। তারা মনে করেন, প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের চেয়ে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি।

জাতীয় রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায়, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায়। কিন্তু শ্রীপুরের সাধারণ মানুষের কথাবার্তায় ক্ষমতার হিসাব নয়, গুরুত্ব পায় দৈনন্দিন জীবনের স্থিতিশীলতা—কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ। এই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়, নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

গণভোটের আলোচনা তাই একটি সুযোগও বটে, জাতীয় নেতৃত্বের জন্য আত্মসমালোচনার। জনগণ আসলে কী চাইছে সেটি বোঝার সুযোগ। শ্রীপুরের জনমত বলছে, মানুষ আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, কার্যকর গণতন্ত্র দেখতে চায়। যেখানে ভোটের আগে ও পরে দুটো সময়েই আস্থা অটুট থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই নির্বাচনের সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিণতিবোধ, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর। শ্রীপুরের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে জাতীয় সংকটের সমাধান স্থানীয় আস্থার মধ্য দিয়েই খুঁজে নিতে হবে।