সংবাদ শিরোনাম

পাইকগাছা আদালত ভবন ঝুঁকিতে, ধসে পড়ল ছাদের অংশ

 প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন   |   খুলনা

পাইকগাছা আদালত ভবন ঝুঁকিতে, ধসে পড়ল ছাদের অংশ

খুলনা ব্যুরো :

খুলনার পাইকগাছা চৌকি আদালতের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার  দিকে (২ সেপ্টেম্বর) আদালতের কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টরের (সিএসআই) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় কক্ষটি খালি থাকায় কেউ হতাহত হননি। তবে দিনের বেলায় আদালতের কার্যক্রম চলার সময় এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন আদালত-সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। পরে সিএসআই কার্যালয়ে গিয়ে ছাদের ভেঙে পড়া অংশ, পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রী মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধসে পড়ার ঘটনাটি দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভেঙে পড়া ছাদের অংশ তাঁর মাথার ওপরও পড়তে পারত বলে জানান তিনি।

আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। দেয়াল ও ছাদে ফাটল রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় খসে পড়েছে পলেস্তারা। ছাদের কয়েকটি অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ ধসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

পাইকগাছা চৌকি আদালতে প্রতিদিন বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে। আদালতের কার্যক্রম চলার সময় বিভিন্ন কক্ষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অবস্থান করেন। ফলে কর্মব্যস্ত সময়ে ছাদ কিংবা ভবনের অন্য কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম এলাকা হিসেবে খুলনা জেলার পাইকগাছায় ১৯৮৩ সালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। ছাদসহ কয়েকটি অংশ তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। সিএসআই কার্যালয়ের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভবনটির কাঠামোগত পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে। ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তাঁরা।

আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার পরও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো অব্যবস্থাপনায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।