সংবাদ শিরোনাম

রমজানের বাজারে মূল্যস্ফীতি: নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা

 প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন   |   খুলনা

রমজানের বাজারে মূল্যস্ফীতি: নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা

খুলনা ব্যুরো :

বাংলাদেশে রমজান মাসে আধ্যাত্মিক উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ে, বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে। ২০২৬ সালের রমজান ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে, যা নতুন সরকারের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণের বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতির হার ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশ, যা রমজানের আগে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইতিমধ্যেই আয়ের বড় অংশ খাদ্যে ব্যয় করছে, রমজানের চাহিদা বাড়লে চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

রমজানের প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে খেজুরের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, সাধারণ মানের খেজুরের দাম এখন ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যান্য পণ্য যেমন ছোলা, ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, মশলা ও মাংসের দামও বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব একটি বড় সমস্যা। ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠিত গ্রুপ পণ্যের সরবরাহ চেইন নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশীয় বাজারে তা প্রতিফলিত হয় না।

বিশেষজ্ঞরা সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য কৌশল হিসেবে সুপারিশ করছেন: শক্তিশালী প্রতিযোগিতা কমিশন, লেনিয়েন্সি প্রোগ্রাম, আকস্মিক অভিযান (ডন রেইড), নিয়মিত সাপ্লাই চেইন মনিটরিং, আইন সংশোধন এবং ডিজিটাল মার্কেট মনিটরিং। কৃষকদের সরাসরি বিক্রির সুযোগ বৃদ্ধি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানোও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সরকার ইতোমধ্যেই আমদানি বৃদ্ধি ও শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে নতুন সরকারের জন্য রমজানের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কম থাকে এবং উৎসবের আনন্দ বজায় থাকে।