হাম পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত সিভিল সার্জন
মোঃআশরাফুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে জেলার হাম পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়েছেন সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দীন। রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। যদিও বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর পাননি সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকরা জানান, জেলায় হাম টিকাদান ক্যাম্পেন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। সেখানে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলার বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তিন উপজেলায় চলছে হামের বিশেষ টিকা দেয়া কর্মসূচি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ শিশুকে টিকা দেয়া গেছে। বাকী দুই উপজেলা গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় নতুন করে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে গোমস্তাপুরে ৩৫ হাজার ৩২০ ও নাচোলে ১৪ হাজার ৯৬২ শিশুকে টিকা দেয়ার লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হবে টিকাদান কর্মসূচি।
এরপর সাংবাদিকদের হাম বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ দেন সিভিল সার্জন একেএম শাহাব উদ্দীন। এসময় একেরপর এক প্রশ্ন করতে থাকেন সাংবাদিকরা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শহীদুল হুদা অলক প্রশ্ন করেন, জেলা হাসপাতাল থেকে হাম সংক্রমনের একটি তথ্য দেয়া হয়, কিন্তু জেলার সার্বিক তথ্যটি পাওয়া যায় না। সিভিল সার্জন অফিসে সেই তথ্যটি কেন সরবরাহ করে না। যে শিশুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে মারা যাচ্ছে বা রাজশাহী হাসপাতালে মারা যাচ্ছে অথব রাজশাহী নেয়ার পথে মারা যাচ্ছে -এসব তথ্য সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে দেয়া উচিত। তবেই সার্বিক চিত্র ফুটে উঠবে। জহুরুল ইসলাম জানতে চান- এখন পর্যন্ত জেলায় কতজন শিশুর হাম বা হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ফয়সাল মাহমুদ প্রশ্ন করেন, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিভাগ কী ধরণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। একইসঙ্গে তিনি আরও জানতে চান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রয়োজন মনে করেন কি-না? মনোয়ার হোসেন জুয়েল প্রশ্ন করেন- হামের যে প্রদুর্ভাব ঘটেছে এটা স্বীকার না করে কেন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যান্য সাংবাদিকরাও এমন বেশ কিছু প্রশ্ন করেন সিভিল সার্জনকে।
সিভিল সার্জন অনেক প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর দেন নি। তবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিভাগের নানার সীমাবদ্ধতার কারণে সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে নতুন তিনজন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের আলাদা আইসোলেশন কর্ণারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।