মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প: উচ্চ ভাড়া ও অস্বচ্ছতার জালে আটকে থাকা নানা বিতর্ক
দেশের তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দরপত্র ছাড়াই চীনা কোম্পানির প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহণ, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া এবং আগের অন্য আরেকটি প্রস্তাবের সাথে হুবহু মিল থাকার বিষয়টি জ্বালানি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের মূল বিষয়সমূহ একনজরে
o দরপত্র ছাড়াই জিটুজি প্রস্তাব: কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই চীনের ‘চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) প্রস্তাবটি সরাসরি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
o অস্বাভাবিক বেশি ভাড়া: বর্তমানে চালু থাকা সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউগুলোর দৈনিক ভাড়ার চেয়ে সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া বেশি প্রায় ৩৭ শতাংশ। কোম্পানিটি ভাড়া দাবি করেছে দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার, যা ১৫ বছরে বাংলাদেশের মোট আর্থিক দায় দাঁড়াবে প্রায় ১০০ কোটি ২০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা)।
o মালিকানা যাচাইয়ে কৌতূহল: প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদনের পর চীনা প্রতিষ্ঠানটির রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে স্বীকৃতির উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ, যা নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
o আগের প্রস্তাবের সঙ্গে অস্বাভাবিক মিল: এর আগে ‘এনএস এনার্জি নেভিগেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে সিএনইইর জমা দেওয়া নথিপত্রের সাথে এনএস এনার্জির ধারণক্ষমতা, গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতা ও বাণিজ্যিক কাঠামোর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। এমনকি সিএনইইর একটি নথির মানচিত্রে এনএস এনার্জির নাম পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল।
o কম খরচের বিকল্পের অবমূল্যায়ন: সিএনইইর তুলনায় কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের আরেকটি চীনা প্রস্তাব (চায়না মার্চেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ও লিয়ান ডকইয়ার্ডের যৌথ প্রস্তাব) টেবিলে থাকলেও সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ার অজুহাতে উচ্চ ভাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে সিএনইই। তবে খোদ মূল্যায়ন কমিটিও এ ভাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে আরো গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে।
বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পূর্বের টার্মিনালগুলোর তুলনায় নতুন এ এফএসআরইউর ভাড়া এত বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাছাড়া, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এত বড় অঙ্কের চুক্তিতে যাওয়ার আগে ব্যয় এবং সময়সীমা আরো নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।