সংবাদ শিরোনাম

আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগে পদচারী-সেতু উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

 প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগে পদচারী-সেতু উদ্বোধন    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

মোহাম্মদ আর্শাদ হোসেন-  ঢাকা

রাজধানীর আফতাবনগর ও বনশ্রী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে রামপুরা (বেগুনবাড়ী) খালের ওপর নির্মিত হয়েছে নতুন পদচারী-সেতু। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। উদ্বোধনের পর সেতুটি পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “ প্রধানমন্ত্রী জনগণের উন্নয়নের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করেন। এর প্রমাণ আজকের আফতাবনগর-বনশ্রী ২ নম্বর স্টিল ফুট ব্রিজের উদ্বোধন।”

তিনি বলেন, আফতাবনগর ও বনশ্রী আবাসিক এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দুই এলাকার মধ্যে সহজ ও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নতুন এই পদচারী-সেতু চালু হওয়ায় দুই এলাকার মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে এবং তাদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় হবে। ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি ব্যবহারের ফলে যাতায়াতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় সাশ্রয় হতে পারে।

১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্প

ডিএনসিসির অর্থায়নে নির্মিত পদচারী-সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার এবং প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। স্টিলের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ও টাইলস ব্যবহার করে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যবর্তী খাল পারাপারে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন সেতু চালু হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ দুই এলাকার সাধারণ মানুষের পারাপারে ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও দুটি সেতু নির্মাণাধীন

আফতাবনগর-বনশ্রী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত করতে একই খালের ওপর আরও দুটি সেতু নির্মাণ করছে ডিএনসিসি। এর একটি বর্তমান পদচারী-সেতুর পশ্চিম পাশে আইডিয়াল স্কুলের কাছে এবং অপরটি পূর্ব দিকে মেরাদিয়া বাজারের কাছে নির্মাণ করা হচ্ছে।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, এসব অবকাঠামো ভবিষ্যতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রগতি সরণিতে মেট্রোরেল নির্মাণের সময় বিকল্প রুট হিসেবে আফতাবনগর-বনশ্রী এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রধান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়েরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন সোসাইটির নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন পদচারী-সেতুর মাধ্যমে আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পারাপারের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।