হামলার আশঙ্কায় সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার: পুলিশের সতর্কতার পর উচ্চসতর্কতা জারি
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা সতর্কতার পর সকল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সারাদেশের বিমানবন্দরে নজরদারি, তল্লাশি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এতে যাত্রী-যাত্রীনীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন, তবে নিরাপত্তা চেক বেড়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পর সিদ্ধান্ত
সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (সিএএ) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা উল্লেখ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়। চিঠি পাওয়ার পরপরই সিএএ উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
"সিকিউরিটি পার্সোন ছাড়া বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তা তল্লাশিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না," চেয়ারম্যান আরও বলেন। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অ্যারাইভাল, ডিপারচার এবং কার্গো এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দেখা গেলেই তাৎক্ষণিক রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিটিটিসির গোয়েন্দা সতর্কতা: জঙ্গি হুমকির প্রেক্ষাপট
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সম্প্রতি একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হামলার পরিকল্পনা ধরে ফেলে সতর্কতা জারি করে। সিটিটিসি বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দিন বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে বিমানবন্দরসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।"
সাম্প্রতিক সপ্তাহে সিটিটিসি একাধিক গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে যাতে জঙ্গিরা উগ্রপন্থী প্রচার চালিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে অনুরূপ সতর্কতায় কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটি ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তর সারাদেশের বিমানবন্দর ও আন্তর্জাতিক টার্মিনালে সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
জনসাধারণের জন্য পরামর্শ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে—সন্দেহজনক কোনো ব্যাগ, বস্তু বা ব্যক্তি দেখলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মীদের জানাতে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং এআই-ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম চালু রয়েছে। এছাড়া, বিমানবন্দরের চারপাশে পুলিশ পিকেট এবং কুক্কার প্যাট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে।
এ নিরাপত্তা জোরদার বিমান চলাচল ব্যাহত করেনি, তবে যাত্রীরা অতিরিক্ত সময় নিয়ে আসার পরামর্শ পাচ্ছেন। সিএএ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।