সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের জীবনবৃত্তান্ত

 প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের জীবনবৃত্তান্ত

ঢাকা, ৭ বৈশাখ (২০এপ্রিল):

ডা. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন ১৯৬০ সালের ২৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম মোঃ জাফর আলী সরকার ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাতা বেগম জেবুননেসা ছিলেন একজন শিক্ষিকা। 

ডা. আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন কাওরাইদ কেএন হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS) থেকে এফসিপিএস, ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোলজিতে এমএস, ২০০৪ সালে কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস, পাকিস্তান থেকে এফসিপিএস, ২০০৬ সালে রয়‍্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস, এডিনবরা, যুক্তরাজ্য থেকে এফআরসিপি ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি দেশ-বিদেশে স্বীকৃত একজন খ্যাতনামা ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ।

১৯৮৩ সালে তিনি বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রাখেন। পেশাগত ভাবে তিনি ইউরোলজি এর অধ্যাপক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের নির্বাচিত ডিন (২ বার), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস-এর নির্বাচিত কাউন্সিলর ও অনারারি সচিব (২ বার), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচিত সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) সদস্য, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (BMRC)-এর ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল জার্নাল, ইউরোলজি জার্নাল অব বাংলাদেশ ও জার্নাল অব বিসিপিএসের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি সার্ক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, আইসিডিডিআর’বি এর বোর্ড অফ ট্রাস্টির সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (BMA)-এর দুইবার নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি এশিয়ান ইউরোলজি সোসাইটি, ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব এশিয়া, ওয়ার্ল্ড মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলর এবং আমেরিকান, ইউরোপিয়ান ও ইন্ডিয়ান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর পেশাজীবী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনসহ গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সকল আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত চারবার সদস্য সচিব ও নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সম্মিলিত  পেশাজীবী পরিষদ, শত নাগরিক কমিটি, জাতীয়তাবাদী নাগরিক ঐক্য এর উদ্যোক্তা সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ছিলেন, পরবর্তীতে ২০২২ সালে উক্ত পরিষদের আহবায়ক হন।

২০০৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে ৫০টির অধিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। 

রাজনৈতিক কারণে গত ১৮ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৮ টি মামলা দায়ের করা হয়। তিনি তিন দফায় কারাবরণ করেন-২০০৯ সালের ৯ মে থেকে ৯ ডিসেম্বর, ২০১১ সালের মার্চে, ২০১৩ সালের ১১ মার্চ থে ৭ জুন তবুও তিনি আদর্শ ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।