সংবাদ শিরোনাম

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু পদ্মার বাসডুবি

 প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু পদ্মার বাসডুবি

প্রতিদিনের দেশ ডেস্ক :

বারো বছর আগে সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ৭২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা সেই নারী এবার প্রাণ হারালেন পদ্মা নদীতে বাসডুবি দুর্ঘটনায়।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্য আটরাই গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী নাসিমা বেগম ছিলেন সংগ্রামী এক নারী। স্বামী নুর ইসলামের মৃত্যুর পর দুই সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে গত ফেব্রুয়ারিতে সাভারে যান তিনি। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়দের সঙ্গে ফরিদপুরে অবস্থান করছিলেন।

গত ২৫ মার্চ বিকেলে অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা দেন নাসিমা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় যাত্রীরা পানিতে তলিয়ে যান। পরে আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ছয় ঘণ্টা পর রাতে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর বেঁচে ফেরার ঘটনা একসময় দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আটকে থেকেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে জীবনে ফিরে আসা সেই নাসিমার জীবনসংগ্রামের সমাপ্তি ঘটল আরেক দুর্ঘটনায়।

নিহতের স্বজন জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, মরদেহ গ্রামে নেওয়ার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হলেও বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত ও প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আহত হন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।