২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল জিতলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন
ছবি-রয়টার্স
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন। সাহিত্যে তাঁর সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে তিনি পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ তৈরি করার জন্য তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। একঘেয়েমিকে প্রধান শত্রু মনে করা এই লেখিকার প্রধান অস্ত্র শব্দ, কল্পনা ও রসবোধ। সাধারণ কিংবা কঠিন অভিজ্ঞতাকে নতুন অর্থ ও সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তোলার বিশেষ মুনশিয়ানা রয়েছে তাঁর লেখায়।
কার্সনের এই বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ দেখা যায় ২০০১ সালে প্রকাশিত বই 'দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড : আ ফিকশনাল এসে ইন ২৯ ট্যাঙ্গোস'-এ। ২৯টি পর্বে সাজানো এই বইয়ে এক প্রতারক স্বামী ও স্ত্রীর ভেঙে পড়া দাম্পত্যের কথা উঠে এসেছে, যেখানে প্রতিটি পর্বের শুরুতে রয়েছে কবি জন কিটসের কবিতার পঙক্তি। তাঁর ১৯৯৮ সালের উল্লেখযোগ্য বই 'অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : আ নভেল ইন ভার্স'-এর মূল ভিত্তি খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের কবিতার খণ্ডাংশ। গ্রিক পুরাণে ডানাওয়ালা লাল দৈত্য গেরিয়নকে হেরাক্লিস হত্যা করলেও কার্সন সেই গল্পকে আধুনিক প্রেম ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন।
শুধু রসবোধ বা পুরাণ নয়, তাঁর লেখায় গভীর শোকগাথাও ধরা দিয়েছে। ২০১০ সালে প্রকাশিত 'নক্স' বইটি তিনি ডেনমার্কে মারা যাওয়া ভাই মাইকেলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখেন। বাক্সের মতো তৈরি এই বইয়ের ভেতরে রয়েছে ভাঁজ করা ছবি, চিঠি ও লেখার সংকলন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাচীন রোমান কবি ক্যাটুলাসের শোকগাথা। ভিন্ন সময়ের দুই ভাইকে হারানোর বেদনা এতে একসূত্রে মিলেছে।
পুরো সাহিত্যজীবনে প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তিনি। এর অনন্য উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'ফ্লোট', যেখানে যেকোনো ক্রমে পাঠযোগ্য ২২টি ছোট রচনা স্থান পেয়েছে।