সংবাদ শিরোনাম

সুদান-দক্ষিণ সুদান সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ২৬

 প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সুদান-দক্ষিণ সুদান সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ২৬ ছবি-সংগৃহীত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ আবেই অঞ্চলে কয়েক দিনের আন্তঃসম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮২ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আবেই শহরের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের পক্ষ থেকে হতাহতের এই সংখ্যা জানানো হয়। আবেই অঞ্চলে সংঘর্ষ নতুন নয়। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হয়ে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধের সমাধান হয়নি।

জাতিসংঘের আবেই অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এনগক দিনকা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। পরদিন মিসেরিয়া সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিও নিহত হন। এই দুই হত্যাকাণ্ডের জেরে আবেইয়ের আমিয়েত সাধারণ বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে। এনগক দিনকা ও মিসেরিয়া-দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আগে থেকেই জমি, পশুর চারণভূমি ও পানির উৎস নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

মিসেরিয়ারা সুদানের আরব যাযাবর পশুপালক সম্প্রদায়। শুষ্ক মৌসুমে তারা পশুর জন্য ঘাস ও পানির সন্ধানে দক্ষিণ দিকে আবেই অঞ্চলে চলে আসে। এ সময় অঞ্চলটির স্থায়ী বাসিন্দা এনগক দিনকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

আরও প্রাণহানি ঠেকাতে তৎপর জাতিসংঘ
জাতিসংঘের আবেই অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, দুই সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করছেন। উভয় পক্ষই সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, আরও প্রাণহানি ঠেকানোই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। সম্প্রদায়ের নেতাদের সংলাপের পথে এগিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক হামলা ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আবেইয়ে মোতায়েন জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য রয়েছেন। সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়াই এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তেলসমৃদ্ধ আবেই নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ
আবেই তেলসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বর্তমানে অঞ্চলটি সুদান ও দক্ষিণ সুদান যৌথভাবে পরিচালনা করলেও উভয় দেশই এর ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে।

দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর আবেইয়ের ভবিষ্যৎ মর্যাদা নির্ধারণে গণভোটসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উঠলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

অঞ্চলটির বিরোধ শুধু দুই দেশের সরকারকে ঘিরে নয়; স্থানীয় এনগক দিনকা ও মিসেরিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধও পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে।

২০১৮ সালে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। ওই সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল। এরপর দেশটিতে তুলনামূলক শান্তি বজায় রয়েছে।

তবে সীমান্তবর্তী আবেইয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী ডিসেম্বরে স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ সুদান। এর আগে সীমান্ত অঞ্চলে সহিংসতা দেশটির শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা