ডিজিটাল হচ্ছে টিসিবি, ভর্তুকি পণ্য বিতরণে বাড়বে স্বচ্ছতা
ঢাকা প্রতিনিধি:
ডিজিটাল টিসিবি কার্ড, ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল-ইন-ওয়ান পিওএস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)নির্ভর রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সংস্থাটির পণ্য বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) টিসিবির সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির কার্যক্রমের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উৎপাদক পর্যায় থেকে পণ্য শহর বা রাজধানীর খুচরা বাজারে পৌঁছানোর সময় বিভিন্ন কারণে দামের ব্যবধান তৈরি হয়। পাশাপাশি কোথাও সাময়িক সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে টিসিবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে টিসিবির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
ডিজিটাল কার্ডে মিলবে টিসিবির সেবা
নতুন ‘উপকারী’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রচলিত কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও টিসিবির সেবা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ডিজিটালি স্বাক্ষরিত ও এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড ব্যবহার করে উপকারভোগীর পরিচয় এবং পণ্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
এর ফলে কোনো উপকারভোগীর কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও যাচাই করা পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত পণ্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ডিলার নিয়োগেও আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা
অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হলে ডিলার হওয়ার আবেদন, তথ্য সংরক্ষণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যাবে। আবেদনকারীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচন করার সুযোগও থাকবে।
এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট কালেকশন চালু হলে আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও সহজতা আসবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
এক ডিভাইসেই বিক্রি ও যাচাই
টিসিবির অল-ইন-ওয়ান পিওএস ব্যবস্থায় পণ্য বিক্রি, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই, অনলাইন পেমেন্ট এবং তাৎক্ষণিক বিক্রয় রশিদ দেওয়ার সুবিধা থাকবে।
অন্যদিকে এআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোন এলাকায় কী পরিমাণ পণ্য বিক্রি ও বিতরণ হচ্ছে, কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে অনিয়ম শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
উপকারভোগীদের দ্রুত তথ্য ও সহায়তা দিতে এআইভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বাদ পড়েছে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারী
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পর প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে টিসিবির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি ভর্তুকি যাতে প্রকৃত ও যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে ক্ষেত্রে এই ডেটাবেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ উপকারভোগী টিসিবির সেবার আওতায় রয়েছেন। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে টিসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকির অপচয় আরও কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং টিসিবির সেবা হবে সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে টিসিবির ডিজিটাল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।