ডাক্তারের মুক্তি চাইল জাতিসংঘ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
১৮ মাসের বেশি সময় ধরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রয়েছেন গাজার চিকিৎসক ডা. হুসাম আবু সাফিয়া। তাঁর ওপর কারাগারে নির্যাতনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা তুলে ধরে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের ৫২ বছর বয়সী পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়াকে নিরাপদ ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। কমিশনের দাবি, তাঁর ওপর দীর্ঘদিন ধরে "গুরুতর ও অব্যাহত নির্যাতন" চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে।
ডা. আবু সাফিয়ার আইনজীবী নাসের ওদেহ বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটজনক। সাম্প্রতিক সাক্ষাতে তিনি এতটাই আহত ও দুর্বল ছিলেন যে প্রথমে তাঁকে চিনতেই কষ্ট হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বলছে, তাঁর শরীরে নিয়মিত নির্যাতনের স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। গত মাসে ইসরায়েলের একটি আদালতে ভিডিও লিংকে হাজির হওয়ার সময়ও তাঁকে আগের তুলনায় অনেক বেশি শীর্ণ দেখা যায়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজার অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী ও রোগীদের সঙ্গে ডা. আবু সাফিয়াকেও আটক করে ইসরায়েল। পরে তাঁকে "অবৈধ যোদ্ধা" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যার ফলে বিচার ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে অভিযোগ ছাড়াই আটক থাকা গাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের একজন তিনি।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের দাবি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের আচরণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং তা আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে। তবে ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস এসব অভিযোগকে "মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একই তদন্ত কমিশন গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। আর চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের আরেকটি মানবাধিকার সংস্থাও ডা. আবু সাফিয়ার আটককে "স্বেচ্ছাচারী" আখ্যা দিয়ে তাঁর দ্রুত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।