সংবাদ শিরোনাম

শ্রীপুরে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো আবাদ

 প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ অপরাহ্ন   |   ঢাকা

শ্রীপুরে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো আবাদ

 রতন প্রধান, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগ এবং সরকার প্রদত্ত প্রণোদনার সুফলে এবার সরিষা চাষে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, চলতি অর্থবছরে উপজেলায় সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯৫ হেক্টর জমি। তবে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ ও সাড়া পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বর্তমানে প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪২০ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও আবাদ—উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকার প্রদত্ত কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উন্নত জাতের সরিষার বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব প্রণোদনা সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উপজেলার তেলিহাটি, মাওনা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, ধান কাটার পর পতিত জমিতে সরিষার আবাদ করে কৃষকরা স্বল্প খরচে ভালো ফলন পাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় সরিষার গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, “সরকারি প্রণোদনার কারণে আমাদের উৎপাদন খরচ অনেক কমেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে যদি দাম ঠিক থাকে, তাহলে আমরা ভালো লাভ করতে পারবো।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকরা ধান ও সবজির পাশাপাশি এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ কৃষকদের আস্থা ও উৎসাহ বাড়িয়েছে। সরিষা থেকে উৎপাদিত তেল একদিকে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে বাজারজাত করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন।

সরিষার বাম্পার ফলনে শুধু কৃষকরাই নয়, উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীরাও। ফসল সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। সব মিলিয়ে শ্রীপুর উপজেলার সরিষার সোনালি মাঠ এখন কৃষকের স্বচ্ছলতা ও সম্ভাবনাময় কৃষি অর্থনীতির উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।