দেশ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে: ফটোসাংবাদিক মঈনউদ্দীনের সাফল্যের গল্প
মাসুদ আল হাসান:
মঈনউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকতা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৭০ সালের ২৫ জুলাই ঢাকার এক ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন রেলওয়ে পরিচালক এবং মাতা একজন
গৃহিনী। শৈশব থেকেই উনার আলোকচিত্রের সাথে এক আত্মিক সম্পর্ক
গড়ে ওঠে। ১৯৪৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার
পর তাঁর বড় মামা সেখানে মেডিকেল ফটোগ্রাফার হিসেবে যোগ দেন। পারিবারিক স্টুডিও
ব্যবসা এবং বড় মামার কাজের পরিবেশ মঈনউদ্দিনকে খুব অল্প
বয়সেই ক্যামেরার প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। আশির দশকে ছোট
চাচার প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে ফটোসাংবাদিকতায় তাঁর হাতেখড়ি হলেও পড়াশোনার
চাপে তখন তা নিয়মিত করতে পারেননি। তবে আলোকচিত্রের
প্রতি তাঁর সেই শৈশবের প্যাশনই শেষ পর্যন্ত তাঁকে পেশাদার উৎকর্ষতার শিখরে নিয়ে গেছে।
মঈনউদ্দীন
আহমেদ ২০০৬ সালে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ম্যাগাজিন ‘ক্রীড়ালোকে’ যোগদানের মাধ্যমে পূর্ণদমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউ
নেশন’-এ যোগ দেন এবং বর্তমানে সেখানে প্রধান ফটোসাংবাদিক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত দক্ষতা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ২০১৩ সালে প্রখ্যাত পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট থেকে
ফটোসাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। খেলাধুলার সংবাদ
সংগ্রহ ও ফটোগ্রাফির প্রয়োজনে তিনি এ পর্যন্ত বিশ্বের ১০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
সাংবাদিকতায়
তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য সম্মাননায়
ভূষিত হয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি ‘আবাসন নিউজ২৪.কম’ থেকে "ফটোসাংবাদিক
অফ দ্য ইয়ার" পুরস্কার পান। ২০১৯ সালে নেপাল এনএফপিজেএ-এর আমন্ত্রণে দেশটির তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখরেলের হাত থেকে তিনি "থার্ড ন্যাশনাল নেপাল লাইভ ফটোজার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড" গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২১ সালে
বন্ধু মহল ডোনার সোসাইটি সম্মাননা এবং ২০২২ সালে ধুনুক সংস্থা থেকে ‘টোব্যাকো
কন্ট্রোল মুভমেন্ট মিডিয়া অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার লাভ করেন। অতি সম্প্রতি ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে
অসীম সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট তাঁকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
করে।
একজন
সফল সংগঠক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট
অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য ও অর্থ সম্পাদক থাকাকালীন তিনি দুইবার ‘রুপসী
বাংলা ফটো কন্টেস্ট’-এর আহবায়ক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন
করেন। তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সাফল্য হলো ২০২৫ সালে নেপালের
কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান প্রফেশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত "আউটস্ট্যান্ডিং ফটো জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড"। মঈনউদ্দীন আহমেদ তাঁর ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে আজও ইতিহাসের মুহূর্তগুলোকে
জীবন্ত করে রাখছেন।