লেন্সে মানবিক গল্প ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি: সনি রামানির আলোকচিত্রে সমাজ-প্রকৃতির শক্তিশালী ভাষ্য
মাসুদ আল হাসান:
সনি রামানি বাংলাদেশের ফটোসাংবাদিকতা ও প্রামাণ্য আলোকচিত্র জগতের
এক বলিষ্ঠ নাম। গত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিত্রকল্পের মাধ্যমে
কাহিনী বর্ণনার মাধ্যমে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের
খতিয়ান তুলে ধরছেন। বর্তমানে তিনি
রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউ এজ’-এ স্টাফ ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। শৈশব থেকে লালিত
স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত আলোকচিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠশালা
সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট’ থেকে ২০১৩ সালে এক বছরের প্রফেশনাল
প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন।
সনি রামানির ক্যামেরার লেন্স কেবল সংবাদই ধারণ করে না, বরং তা
মানবাধিকার, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা
মানুষের অদম্য সাহসের কথা বলে। তার পেশাদারিত্ব
ও শিল্পবোধ তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি বর্তমানে
ইতালির নূরফটো , ব্যানার নিউজ বাংলা এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ
(সিজি এস)-এ কন্ট্রিবিউটর হিসেবে যুক্ত আছেন। এর আগে তিনি বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি),
ফোকাস বাংলা এবং যুক্তরাজ্যের ডিমোটিক্স-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার তোলা ছবিগুলো
নিয়মিতভাবে এপি, এএফপি এবং নুরফটোর মাধ্যমে বিশ্বসেরা গণমাধ্যমগুলোতে
প্রকাশিত হচ্ছে।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সনি রামানি অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে
ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো তিনবার মর্যাদাপূর্ণ
ইউনিসেফ মিনা অ্যাওয়ার্ড লাভ (২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮)। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অ্যাওয়ার্ড (২০১৯),
অ্যাকশনএইড সম্মাননা (২০২০) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) থেকে একাধিকবার বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও তিনি উচ্চতর সম্মাননা
পেয়েছেন।
তার শিল্পকর্মগুলো বৈশ্বিক প্রদর্শনীতে সমানভাবে সমাদৃত। ২০২৩ সালে দুবাইতে আয়োজিত জাতিসংঘের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শনীতে তার
কাজ স্থান পায়। অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ শিল্পকলা
একাডেমিতে
‘বিপন্ন পরিবেশ ও প্রকৃতি’ শীর্ষক তার একটি
একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজিত হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন ও
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সনি রামানি বিশ্বাস করেন, আলোকচিত্র কেবল একটি স্থির চিত্র
নয়, বরং এটি সমাজকে পরিবর্তনের পথ দেখানোর এবং মানবিক বোধ
জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।