সোনালী ব্যাংকের অতিরিক্ত দুই বোনাস ফেরতের নির্দেশ, আবারও চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের
২০২৩ সালে নীতিমালা অমান্য করে দেওয়া পাঁচ বোনাসের মধ্যে দুটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশ
ছবি-সংগৃহীতনিজস্ব
প্রতিবেদক:
সোনালী ব্যাংকের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ২০২৩ সালে দেওয়া অতিরিক্ত দুই উৎসাহ বোনাসের অর্থ ফেরত নিয়ে
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক
প্রতিষ্ঠান বিভাগ। একই বিষয়ে এর আগে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায়
এবার পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর সোনালী
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খানের কাছে পাঠানো চিঠিতে
নীতিমালাবহির্ভূত অতিরিক্ত দুই বোনাসের অর্থ আদায় করে দ্রুত সমন্বয়ের নির্দেশ
দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালেও একই বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত নীতিমালা
অনুযায়ী নির্দিষ্ট সূচকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি উৎসাহ বা
পারফরম্যান্স বোনাস দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংকের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট পাঁচটি বোনাস দেওয়া হয়। ফলে অতিরিক্ত দুটি বোনাস
নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে বিভাগটি।
ব্যাংকটির প্রায় ২১ হাজার ৫০০
কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই অতিরিক্ত অর্থসুবিধা পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা
গেছে। প্রতিটি বোনাস বাবদ ব্যাংকের আনুমানিক ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। সে হিসাবে
দুটি অতিরিক্ত বোনাসে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি টাকা।
পরবর্তী সময়ে সোনালী ব্যাংকের
পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার পাশাপাশি অনুমোদনের
আবেদন করা হয়। তবে নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেই আবেদন গ্রহণ করেনি অর্থ
মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সোনালী ব্যাংকের
তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আফজাল করিমকে
ঘিরে নিয়মিত পাঁচটি বোনাস দেওয়ার দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ চাপ সৃষ্টি
করে। একই সময়ের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান
সিদ্দিকীকেও পদত্যাগ করতে হয়।
চাপের মুখে তৎকালীন পরিচালনা
পর্ষদ নীতিবহির্ভূতভাবে বোনাস অনুমোদন করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে বিষয়টি
নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা আপত্তি ওঠে।
২০২৪ সালের আগস্টে সোনালী
ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর
বোনাস-সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে
২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সোনালী ব্যাংকের এমডিকে অতিরিক্ত দুই বোনাসের অর্থ ফেরতের
বিষয়ে প্রথম দফায় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ
বাস্তবায়ন হয়নি।
সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে বর্তমান
এমডি শওকত আলী খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর
পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করেও
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও
তফসিলি ব্যাংকগুলোতে নির্বিচারে বোনাস বিতরণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর
নতুন সমন্বিত নির্দেশিকা জারি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সেখানে চলতি মূলধনের
ওপর নিট মুনাফা, আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি, শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায়—এই পাঁচ সূচকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বোনাস দেওয়ার
কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।