শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির বাণী

 প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতির বাণী

ডেক্স নিউজ,ঢাকা, ১৩ বৈশাখ (২৬ এপ্রিল):

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন: 

“উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, ক্ষণজন্মা পুরুষ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

বাংলার বাঘ এ কে ফজলুল হক ছিলেন এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান, অসম সাহসী ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯১৬-১৯২১), কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ও পূর্ব বাংলার গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) পদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর অধিককাল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ফজলুল হক ছিলেন কৃষক, শ্রমিক ও গণমানুষের নেতা। তিনি ১৯৩৬ সালে কৃষক প্রজা পার্টি (কেপিপি) এবং ১৯৫৩ সালে শ্রমিক-কৃষক দল প্রতিষ্ঠা করেন। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা এ অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়ন, রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর উদ্যোগে গঠিত ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ বাংলার শোষিত ও নির্যাতিত কৃষক সমাজকে ঋণের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বঙ্গীয় চাকুরি নিয়োগবিধি, প্রজাস্বত্ব আইন, মহাজনি আইন, দোকান কর্মচারী আইন প্রণয়নসহ বহু জনকল্যাণমুখী কাজ করেন যা এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষক-শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ তিনি মুসলিম লীগের সম্মেলনে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ গঠনের ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন, যার মধ্যে নিহিত ছিল আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও পথনির্দেশনা। 

কৃষক-শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলার মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।  আমি আশা করি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশেষ করে রাজনীতিবিদগণ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, জীবনাদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দর্শনকে অনুসরণ করে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ইতিবাচক অবদান রাখবেন। 

আমি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement