সংবাদ শিরোনাম

মক্কায় হামলার অভিযোগে হুতিদের কড়া হুঁশিয়ারি সৌদি বাদশাহর

 প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মক্কায় হামলার অভিযোগে হুতিদের কড়া হুঁশিয়ারি সৌদি বাদশাহর ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ আখ্যা দিয়ে পবিত্র নগরী মক্কায় বারবার হামলার অভিযোগ তুলেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

৯০ বছর বয়সী বাদশাহর এমন সরাসরি ও কড়া মন্তব্যকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর বিরল হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সৌদি আরবের দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বড় অংশই এখন তাঁর ছেলে ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করেন।

চলতি মাসে হুতিদের কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে গত কয়েক বছরের অন্যতম বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বাদশাহ সালমান। তাঁর মতে, এমন কর্মকাণ্ড বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার শামিল।

গত সপ্তাহে সৌদি আরব জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাওয়ার পথে তারা ভূপাতিত করেছে। তবে হুতিরা অভিযোগটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন

প্রায় ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো মক্কায় নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা জারি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরিফ এই নগরীতেই অবস্থিত।

মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের পাশাপাশি সৌদি নাগরিক, বাসিন্দা ও হজ-উমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বাদশাহ সালমান। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলায় এসব বাহিনী কাজ করছে।

সৌদি শহর ও স্থাপনায় হামলা বাড়ছে

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাদশাহ সালমান সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের গত সপ্তাহের কায়রো সফরের কথাও উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ ছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথাও তুলে ধরেন বাদশাহ। ওই আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর মধ্যেই সৌদি শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপর হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, হুতিদের এসব হামলা তাতে নতুন একটি ফ্রন্ট তৈরি করেছে।

শনিবার ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি রাজধানী রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় তারা প্রতিহত করেছে। ওই ঘটনার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

হুতিদের হামলা শুধু সৌদি নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের মধ্যে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবেও লোহিত সাগরের এই জলপথ ব্যবহৃত হচ্ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সূত্র: আলজাজিরা