যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনার ছাড় নবায়ন করবে না, চাপে ভারত
ডেক্স নিউজ:
যুক্তরাষ্ট্র
জানিয়েছে, ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ তারা
আর নবায়ন করবে না।
বিশ্বব্যাপী তেল সংকট মোকাবেলায়
রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ে দেওয়া এই ছাড়ের ফলে ভারত অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে
পেরেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো প্রায় ৩ কোটি
ব্যারেল রুশ তেলের অর্ডার দেয়।
এই ছাড়ের ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার
আওতায় না পড়েই রাশিয়া ও ইরান থেকে কিছু তেল কেনা সম্ভব হয়েছিল। এর প্রধান
সুবিধাভোগী ছিল ভারত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলের অস্থিরতার মধ্যেও দেশটি তেল
আমদানি চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
বুধবার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট
বলেন, রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স আমরা নবায়ন করব না। ১১
মার্চের আগে সমুদ্রে থাকা তেল ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন মূলত বৈশ্বিক
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বল্পমেয়াদে এই ছাড়
দিয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
মার্চ মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ১২ মার্চের আগে বোঝাই করা রুশ তেল সরবরাহের জন্য ৩০
দিনের একটি লাইসেন্স দেয়, যার মেয়াদ ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। একইভাবে ২০ মার্চ ইরানের
তেলের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল।
এই সিদ্ধান্তকে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের
‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের
ভেতরেই সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এই
ধরনের ছাড় রাশিয়াকে আর্থিকভাবে লাভবান করে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা করে। সিনেটর চাক
শুমার ও এই নীতিকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা কঠোর
হওয়ার পর ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে সাম্প্রতিক এই ছাড়ের ফলে
দীর্ঘদিন পর আবারও ইরানি তেল ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ছাড় নবায়ন না করায় বৈশ্বিক তেল বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।