সংবাদ শিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুবির ৪ শিক্ষার্থী আসামী

 প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন   |   খুলনা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুবির ৪ শিক্ষার্থী আসামী

খুলনা ব্যুরো :

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে মারধরের পর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খুবির খানজাহান আলী হলের বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুলকে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে চারতলার ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কয়েকজন আজমুলকে মারধর করেন। তাঁকে ছাদে নিয়ে নির্যাতন এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে চুল কাটার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মসজিদ গলির একটি মেসে ভাড়া থাকতেন।

আজমুলের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযোগটি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আরও বলেন, আজমুল ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকেই কোনো ঝামেলা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যের পোশাক ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।