মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক:
দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ফ্ল্যাগশিপ সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনের শাসন ও জনগণের সেবা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আইনের শাসন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যি সত্যি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
মায়ানমারেই হতে হবে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান
বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক দায়িত্ব বহন করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় তাদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সুনির্দিষ্ট কারণগুলো সমাধান করতে হবে। কারণ, এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল মায়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মায়ানমারেই হতে হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টানা রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি উন্নয়ন ও মেগা পানিসম্পদ পরিকল্পনা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষিই আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কৃষকদের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, সহজ সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারে সরাসরি প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
কৃষিকে জলবায়ু সহনশীল ও সুসংহত করতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর সরকারের নানা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি:
• খাল ও জলপথ পুনরুদ্ধার: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদীপথ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
• মেগা প্রকল্প: তিস্তা নদীর স্থায়ী সমাধানের জন্য 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' এবং পানির সুষ্ঠু সংরক্ষণে 'পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প' দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ ও ২৫ কোটি গাছের লক্ষ্যমাত্রা
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) বৃক্ষরোপণ করা হবে। এছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার এবং রিসাইক্লিং প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি ‘লিড-সার্টিফাইড’ সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশে অবস্থিত, যা টেকসই শিল্পায়নের অনন্য উদাহরণ।
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ সম্পর্কে
এ বছর সিজিএস আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল থিম বা স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে-‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সম্মেলনে বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং ১ হাজারেরও বেশি আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, শীর্ষ কূটনীতিক, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও তরুণ উদ্যোক্তারা যুক্ত হয়েছেন। সম্মেলনটি আগামী ৫ অক্টোবর সমাপ্ত হবে।