সংবাদ শিরোনাম

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়ার ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

 প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়ার ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ ছবি- সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক: 

 আগামী শিক্ষাবর্ষে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তাঁর একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে নিবন্ধটি নতুন পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিষয়টির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাসসকে জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে রাখা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তির অবদান পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই এই সংযোজন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের যুদ্ধ ও কালুরঘাটের স্মৃতি

এনসিটিবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং স্বাধীনতার ঘোষণা ঘিরে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ রয়েছে।

রচনাটিতে ২৫ মার্চের পর চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, ষোলশহরে বাঙালি সেনাদের সংগঠিত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পটিয়ার দিকে সরে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

জিয়াউর রহমানের বর্ণনায় চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর তিনি তাঁর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের প্রতিরোধযুদ্ধে প্রস্তুত করার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে ‘উই রিভোল্ট’ বলে প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাটিও উঠে এসেছে।

কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ

প্রস্তাবিত পাঠে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাও স্থান পেয়েছে। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান নিজের স্মৃতির আলোকে ওই সময়ের পরিস্থিতি এবং ঘোষণার প্রস্তুতির কথা বর্ণনা করেছেন।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, পাঠটি শুরু করার আগে একটি ব্যাখ্যামূলক অংশও রাখা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন হিসেবে না দেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

লেখক পরিচিতিতেও পরিবর্তন

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে জিয়াউর রহমানের পরিচিতিতে তাঁর রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ পদবির উল্লেখ থাকবে।

এ ছাড়া ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’—এই দুটি লেখাকেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিনির্ভর দলিল হিসেবে পাঠের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।

এনসিসিসির অনুমোদন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ যুক্ত হওয়ার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। সর্বশেষ বাসসের প্রতিবেদনে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন পাঠ সংযোজনের ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহ ও জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের একটি পৃথক পাঠ যুক্ত হতে যাচ্ছে।