রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস-এর তেরো বছর পূর্তি উপলক্ষে জানানো যাচ্ছে যে, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার, ক্ষতিপূরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত আইনি কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে অবস্থিত রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়লে ১,১৩৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ২,৪৩৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন। ভবনটির মালিক সোহেল রাণা গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-এর তথ্যানুসারে, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মোট ১৯টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি মামলা শ্রম ও ফৌজদারি আদালতে এবং অবশিষ্ট মামলাসমূহ হাইকোর্ট বিভাগে রিট ও রুল আকারে বিচারাধীন রয়েছে।
কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর অধীনে ১১টি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে, যা ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে বিচারাধীন। এসব মামলার মধ্যে ৭টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দাখিলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একটি মামলার অভিযোগ শুনানির তারিখও একই দিনে নির্ধারিত রয়েছে।
রানা প্লাজা ধসের মূল ফৌজদারি হত্যা মামলায় ৪১ জন অভিযুক্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া, ১৯৫২ সালের ভবন নির্মাণ আইনের অধীনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায়েরকৃত একটি ফৌজদারি মামলা ২০১৮ সাল থেকে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। মামলাটিতে ১৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়েরকৃত অন্যান্য মামলাসমূহ, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলাও অন্তর্ভুক্ত, ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
রানা প্লাজা ধস সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে ৪টি রিট পিটিশন এবং ১টি স্বতঃপ্রণোদিত রুল বিচারাধীন রয়েছে। সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন জানান, ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে দায়েরকৃত রিটসমূহ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে।
২০২১ সালের নভেম্বরে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-এর দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন, যেখানে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
সরকার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং বিচার, ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।