বাসভাড়া নির্ধারণে সরকারের কঠোর অবস্থান, স্বস্তি প্রকাশ ক্যাব ও যাত্রী সংগঠনের

 প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বাসভাড়া নির্ধারণে সরকারের কঠোর অবস্থান, স্বস্তি প্রকাশ ক্যাব ও যাত্রী সংগঠনের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাসভাড়া নির্ধারণে পরিবহন মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের দুই শীর্ষ ভোক্তা ও যাত্রী অধিকার সংগঠন। পৃথক বিবৃতিতে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ক্যাবের পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের দাবি

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ক্যাব জানায়, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় বা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে পরিবহন মালিকরা প্রায়ই বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এবার সরকার জনস্বার্থ ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ভাড়া নির্ধারণে যে সংযম দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।

সংগঠনটি বলেছে, শুধু ভাড়া নির্ধারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। নতুন ভাড়া কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন জরুরি।

যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় সরকারের প্রশংসা

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতিও সরকারের সিদ্ধান্তকে জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মালিকপক্ষের একতরফা দাবির কাছে নতি স্বীকার না করে সাধারণ যাত্রীদের পকেটের সুরক্ষায় সরকার যে অবস্থান নিয়েছে, তা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

সমিতির মহাসচিব বলেন, অতীতে মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাড়া বাড়লেও যাত্রীরা তার সুফল পায়নি। বরং ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি আরও বেড়েছে। এবার সরকারের দৃঢ়তা সাধারণ মানুষের জন্য আশার বার্তা।

পুরনো অভিজ্ঞতায় নতুন শঙ্কা

সংগঠনগুলোর মতে, ২০২২ সালে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর অনেক রুটে সরকারি সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।

সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও যাত্রীদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে—নতুন হার কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হবে কি না।

যাত্রীদের দাবি: বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক পরিবহনে এখনো ‘সিটিং সার্ভিস’ বা ‘ওয়েবিল’-এর নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। তাদের দাবি, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ভোক্তা ও যাত্রী সংগঠনগুলোর মতে, বাসভাড়া নির্ধারণের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ এখন তার কার্যকর বাস্তবায়ন।


Advertisement
Advertisement
Advertisement