শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে একটি
গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১২টায় সচিবালয়ের
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রকল্পের বর্তমান
অবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার
বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ
ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন
ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় তৃতীয় টার্মিনালের
কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে যাত্রীসেবার মান উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই
সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিমানবন্দরের
সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের আকাশপথে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন আরও গতিশীল
হবে এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশের
পর্যটন খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ
এ
এইচ এম মাসুম বিল্লাহ
বিশ্বজুড়ে
পর্যটকদের কাছে টেকসই বা
পরিবেশবান্ধব পর্যটন ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা
পাচ্ছে। প্রকৃতি ও পরিবেশের কোনো
ক্ষতি না করে প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যমন্ডি স্থান ভ্রমণকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বলা হয়। মূলতঃ
পরিবেশ সুরক্ষা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার
অনুধাবন থেকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের
ধারণার সৃষ্টি। এই ধরনের পর্যটনে
বিনিয়োগ শুধু পরিবেশ সুরক্ষায়
ভূমিকা রাখে না, বরং
সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রগতি
অর্জনের সহায়ক। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক, সংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অসামান্য
নিদর্শনের সমাহার রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সুরক্ষার
অনন্য সুযোগ টেকসই পর্যটন এনে দিতে পারে।
সারা
বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তন
মোকাবিলা করার নানান উপায়
খুঁজছে, তখন পরিবেশবান্ধব পর্যটন
একটা দারুণ সমাধান মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটন
দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল পর্যটনে পরিবেশবান্ধব
বিনিয়োগ। এই প্রতিপাদ্য থেকে
আমরা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের গুরুত্ব সহজে অনুধাবন করতে
পারি। পর্যটকদের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ী
থাকার ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন,
জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের লালন পালন এগুলো
সবই প্রকৃতিনির্ভর বা টেকসই পর্যটনের
মূল আকর্ষণ। পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগ বাড়াতে এ সবগুলো ক্ষেত্রে
বিনিয়োগ অপরিহার্য।
বাংলাদেশে
শত শত নদী, হাওড়,
বাওড়, বিলসহ প্রায় ১২০০ পর্যটন কেন্দ্র
রয়েছে। সবুজঘেরা মনোরম পার্বত্য জেলাগুলো নদী, হ্রদ আর
বর্ণিল জাতি-গোষ্ঠীর জন্য
বিখ্যাত। এদের প্রত্যেকের রয়েছে
নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য। হাওড়-বাওড় বাইরে
দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ
দেখতে প্রচুর পর্যটক ভীড় করেন। কক্সবাজারে
বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত প্রতিবছর প্রচুর
দেশি- বিদেশী পর্যটক টেনে আনে। এসকল
পর্যটকদের জন্য নির্মিত পরিবেশবান্ধব
বিচ রিসোর্ট ও দাযিত্বশীল পর্যটকসুলভ
আচরণ উপকূলীয় পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রায়
১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের সুন্দরবন
একটি ইউনেস্কো ওয়েল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত।
এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভবন যেখানে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার,
নোনা পানির কুমির, শত শত প্রজাতির
পাখি, বহু প্রজাতির প্রাণী।
সব মিলিয়ে, সুন্দরবন যেন এক প্রাকৃতিক
সম্পদের এক বিশাল ভান্ডার।
সুন্দরবনের পরিবেশের কোন ক্ষতি না
করে সেখানে বন্যপ্রাণী সাফারি, পাখি দেখা, ম্যানগ্রোভ
বনের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যবেক্ষণের মতো পরিবেশবান্ধব পর্যটনের
সুবিধা আরো বৃদ্ধি করা
প্রয়োজন। আবার পার্বত্য চট্টগ্রামে
কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন, ট্রেকিং, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে সাংস্কৃতিক বিনিময়
এ সকল কার্যক্রম প্রাকৃতিক
পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে স্থানীয় জনগণকে
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে।
চায়ের
রাজধানী শ্রীমঙ্গলে আছে সবুজ চা
বাগান, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল আর বন্যপ্রাণীর অভয়েরণ্য।
সবুজ চা বাগান ও
লাউয়েছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে বেড়ানো অথবা
স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্রা পর্যবেক্ষণ
পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষিত
রাখতে এই ধরনের পর্যটন
কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা
প্রয়োজন। অন্যদিকে হাওড়-বাওড় এলাকায়
নানান প্রজাতির পাখি দেখা, মাছ
ধরা কিংবা নৌকায় ঘুরে বেড়ানো খুবই
উপভোগ্য। খেয়েল রাখতে হবে, যাতে মানুষের
কোনো কার্যক্রম সেখানকার জীববৈচিত্র্য ও জটিল বাস্তুতন্ত্রের
কোনো ক্ষতি না করে।
পরিবেশবান্ধব
পর্যটনের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে
আমাদের সমৃদ্ধ গ্রামীন জীবন কিংবা বিস্তৃত
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় পর্যটনের সুযোগ সৃষ্টি আরও প্রসারিত করা
যেতে পারে। আমাদের গ্রামীণ জীবনযাপন ও কৃষি ব্যবস্থা
কিংবা পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে সেন্টমার্টিনের কোরাল
রিফ ঘুরে বেড়ানো, ছেড়া
দ্বীপের টলটলে পানিতে স্নরকেলিং, সাগরের টেকসই উপায়ে মাছ শিকার এ
ধরনের পর্যটন কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা
প্রয়োজন।
বাংলাদেশে
টেকসই পর্যটনের উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ অপরিহার্য। এজন্য চাই প্রচুর বিনিয়োগ।
পর্যটকদের জন্য পরিবেশবান্ধব থাকার
ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা
তৈরি করা, পানি ও
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এ সকল সুবিধা
সম্প্রসারণে মনোযোগী হওয়ে প্রয়োজন। পরিবেশবান্ধব
আবাসন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য উৎস হতে তৈরি
বিদ্যুৎ ব্যবহার করা এবং বিদ্যুতের
অপচয় রোধের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে
এনভারমেন্টাল ফুটপ্রিন্টের রাশ ধরা সম্ভব
হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা
গড়ে তুলতে বিসাইক্লিং, কম্পোস্টিং, দূষণের পরিমাণ কমানো এবং সম্পদের সর্বোচ্চ
ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে
টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উপায়গুলোর
মধ্যে রয়েছে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে
সেটি ব্যবহার করা, পানির সর্বোচ্চ
ব্যবহার ইত্যাদি। সেই সাথে জীববৈচিত্রা
সংরক্ষণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থলের
সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে
পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি পাবে।
এতে পরিবেশের সুরক্ষার সাথে সাথে পর্যটকদের
জন্য বিনোদন ও শেষার নতুন
সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশের
পরিবেশবান্ধব পর্যটন বেশ কিছু সমস্যা
মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে।
এখনো এজন্য এখাতের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো
গড়ে ওঠে নি। জাতীয়
পর্যটন নীতিমালায় ইকো-ট্যুরিজম বা
পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উন্নয়নে ও বিপননে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। নীতিমালার আলোকে এখাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহ সকলের সমন্বিত
কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি
এই ধরনের পর্যটনের বিষয়ে জনসাধারণের মাকে
সচেতনতার অভাব দেখা যায়। স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়
এ সকল সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জাতিসংঘ
ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ অর্জনে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা
প্রয়োজন। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক বাধা
হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা হলে এই বৃহৎ
বনাঞ্চল বায়ুমন্ডল হতে কার্বন শোষণে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে। সুন্দরবনের
রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যানা জীববৈচিত্রের সংরক্ষণে এই বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনে পরিবেশবান্ধব
পর্যটন খুব কার্যকর হতে পারে। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় সাজেক ভ্যালিতে
হাইকিংয়ের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা যেতে পারে। গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে হাইকিং করলে পরিবেশে
কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সাজেকসহ দেশের সকল
পাহাড়ী অঞ্চলে পর্যটনের ক্ষেত্রে খেয়েল রাখা উচিত যাতে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
ও জীববৈচিত্রের কোনো প্রকার ক্ষতি না হয়।
পরিবেশবান্ধব
পর্যটনে পর্যটকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন সেন্টমার্টিন
ও রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এসকল এলাকায় বেড়ানোর সময়
পর্যটকদের তাদের আচরণের বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ে প্রয়োজন। বিশেষ করে, প্লাস্টিকজাত পণ্য
ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, মাটির ক্ষয় এড়াতে নির্দিষ্ট ট্রেইল বা পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ কিংবা শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে স্থানীয় ঐতিহ্যসমূহ গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। তাই পর্যটকদের এসকল অঞ্চলের সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলো সম্পর্কে
সচেতন থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের হস্তশিল্প পণ্য ও তাদের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্য কেনা এবং পরিষেবাগুলো
ব্যবহার করে সেখানকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পর্যটকরা ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের সংস্কৃতিক
ও ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন ও স্থানগুলোর তাৎপর্য অনুধাবন করলে,
সেটি এসকল সাংস্কৃতিক উপাদান সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক মিথঞ্চিয়ে আরো গভীর করতে সহায়ক
হবে।
পরিবেশবান্ধব
পর্যটনকে আরো কার্যকর করতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক
তাৎপর্য সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবহিত করা প্রয়োজন। এজন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের
সুবিধার্থে গাইডের ব্যবস্থা রাখা, তথ্যনির্দেশক চিহ্ন ও শিক্ষামূলক উপকরণ সরবরাহ করা
যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সুন্দরবনের গাইডেড ট্যুরে পর্যটকদের জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক
প্রভাব মোকাবেলায় ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা প্রদান যেতে পারে। আবার শ্রীমঙ্গলে
ট্যুর গাইড স্থানীয় পরিবেশের সংরক্ষণে টেকসই উপায়ে চা উৎপাদনের ভূমিকা পর্যটকদের কাছে
তুলে ধরতে পারেন। পর্যটকরা যখন দেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের মূল্য অনুধাবন
করবেন, তারা এ সকল মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষায় আরও দাযিত্বশীল হবেন বলে আশা করা যায়।
পরিবেশবান্ধব
ও টেকসই পর্যটন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা
ও জনসচেতনতা বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সারা পৃথিবীতে পরিবেশবান্ধব
পর্যটনের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ
ও আকর্ষণীয়। এই কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বশীল ও উপভোগ্য পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সুযোগ আরও
বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে, তা আরও অধিক সংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম
হবে।