পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা হবে - পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম), ৮ ফাল্গুন (২১ ফেব্রুয়ারি):
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই অঞ্চলকে পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করব।
আজ হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে কার্যালয়ের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ কনসেপ্ট নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। হাটহাজারীর স্থানীয় সমস্যা সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে সকলে মিলে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। সরকারি জমি ও খাল বেদখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। যানজট নিরসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘীর পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ রাখবেন না। হাটহাজারীতে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণিভেদে কোনো বৈষম্য থাকবে না। দরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের তালিকা করে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এসময় মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে প্রতিমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করেন।
বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রাম হাটহাজারী সফরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে রংধনু জাতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছি, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ব। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের সেবক হয়ে থাকতে চাই।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত অমর একুশের কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।