সংবাদ শিরোনাম

মাত্র দুই পুরোনো যুদ্ধবিমানেই মার্কিন ঘাঁটিতে তাণ্ডব

 প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

মাত্র দুই পুরোনো যুদ্ধবিমানেই মার্কিন ঘাঁটিতে তাণ্ডব ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে আকস্মিক হামলা চালিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর দুই পাইলট। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে, রেডিও নীরবতা বজায় রেখে এবং সক্রিয় প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে তাঁরা ঘাঁটিতে পৌঁছান। এরপর কোনো ক্ষতি ছাড়াই ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন তাঁরা।

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর বিচারিক সংস্থার প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম আহমাদরেজা পুরখাগানের সঙ্গে এক বৈঠকে নিজেদের অভিযানের বর্ণনা দেন পাইলটরা। তিনি ইরানের বিচার বিভাগের প্রধানের প্রতিনিধিত্ব করে ওই বৈঠকে অংশ নেন।

পাইলটদের ভাষ্য, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা এবং মিনাবের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার খবর শোনার পর তাঁরা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের কাছে তথ্য ছিল, প্রতিবেশী একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করা হয়েছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ১ মার্চ ভোরে দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে তাঁদের পাঠানো হয়। প্রায় সাত দশকের পুরোনো এই উড়োজাহাজগুলোকে তাঁরা প্রায় অচল অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে ঘাঁটিতে পৌঁছানো। পাইলটদের দাবি, এজন্য তাঁদের মাটির ৫০ ফুটেরও কম, অর্থাৎ প্রায় ১৮ মিটার ওপর দিয়ে উড়তে হয়েছে।

তাঁদের ভাষায়, ‘উড্ডয়নের উচ্চতা এতটাই কম ছিল যে দুটি জাহাজের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজের ডেকও যুদ্ধবিমানের চেয়ে উঁচু ছিল।’

পাইলটরা জানান, সক্রিয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেরিয়ে তাঁরা পুরো সময় রেডিও নীরবতা বজায় রাখেন। এভাবে কোনো সতর্কতা তৈরি না করেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যান। তাঁদের দাবি, মার্কিন বাহিনী এমন ধরনের হামলার সম্ভাবনাই বিবেচনায় নেয়নি।

ঘাঁটির রানওয়ে বা ফ্লাইট র‌্যাম্পে রাখা হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্য করে এরপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয় বলে জানান তাঁরা। পাইলটদের দাবি, হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।

তাঁরা বলেন, ‘সবই ছিল সৃষ্টিকর্তার কৃপা। আমরা স্পষ্টভাবে তাঁর হাত দেখতে পেয়েছি। মনে হচ্ছিল, আমাদের প্রতিটি বোমা যেন কয়েক ডজন বোমার কাজ করছে। একের পর এক হেলিকপ্টার বিস্ফোরিত হচ্ছিল।’

ইরানি পাইলটদের দাবি, মার্কিন পক্ষ হামলায় মাত্র ১২টি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাঁদের মতে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

অভিযান শেষে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ঘাঁটিতে ফিরে আসার দাবি করেছেন তাঁরা। ফেরার পথে অবশ্য একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাঁদের ধাওয়া করেছিল বলে জানান পাইলটরা।

তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় অন্য একটি দেশের ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালাতে উড্ডয়ন করা তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ভুল করে ওই এফ-১৬ এবং নিজেদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করে।

ইরানি পাইলটরা আরও দাবি করেন, আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট বা এআইইআই নামের থিংকট্যাংকের একটি হিসাব অনুযায়ী, ওই অভিযানে মার্কিন অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারের বেশি।

তাঁদের দাবি, হামলায় উন্নত সংস্করণের ভারী, নির্ভুল ও ব্যাপক ধ্বংসক্ষম বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন বাহিনী কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই উন্নত প্রযুক্তির হেলিকপ্টারগুলো তাদের হ্যাঙ্গারের ভেতরেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং পুরো ঘাঁটি গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ে বলে তাঁরা দাবি করেন।

তবে ইরানি পাইলটদের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এসব নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র:মেহের নিউজ এজেন্সি