সংবাদ শিরোনাম

ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, মিলল নতুন ছবি

 প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, মিলল নতুন ছবি ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক অবস্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নতুন ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে ছবিগুলো প্রকাশ করে জানিয়েছে, এসব ছবিতে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন ঘাঁটির ভবন ও সামরিক যানবাহনে হামলার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে।

সিবিএস নিউজের হাতে একান্তভাবে আসা ছবিগুলো সক্রিয় দায়িত্বরত কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য পাঠিয়েছেন। কঠোর সামরিক গণমাধ্যম বিধিনিষেধের কারণে তাঁরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন সেনাসদস্য সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘আমাদের ঘাঁটিতে যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা মার্কিন জনগণকে জানানো হয়নি। আমরা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি, আর কেউ যেন আমাদের মুখে ঘুষি মেরে যাচ্ছে।’

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার ফোর্স বেসে তোলা একটি ছবিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ দেখা গেছে। চার ইঞ্জিনের ওই উড়োজাহাজটির পেছনের অংশে সরাসরি আঘাত লাগে। এতে লেজের অংশটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আগুনে পুড়ে যাওয়া ফিউজেলাজের ওপর থাকা ঘূর্ণায়মান রাডারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশপথে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে এই রাডার গুরুত্বপূর্ণ।

আরও কয়েকটি ছবিতে প্রিন্স সুলতান ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ব্যারাকের চিত্র উঠে এসেছে। কোথাও ভবনের ভেতরের অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেছে, কোথাও শুধু বাইরের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই অক্ষত অবস্থায় দেখা গেছে কংক্রিটের ‘টি-ওয়াল’। গ্রেনেড ও মর্টার হামলা ঠেকাতে এসব দেয়ালকে একসময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আকাশপথের হামলার ক্ষেত্রে এগুলো কার্যত কোনো সুরক্ষা দিতে পারেনি।

কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়েও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি পাওয়া গেছে। ক্যাম্পটি কুয়েত সিটির অনেক উত্তর-পশ্চিমে মরুভূমির প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। মার্কিন সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর সদস্য, সাঁজোয়া যান এবং কিছু উড়োজাহাজের জন্য এটি একটি বড় সমাবেশ ও প্রস্তুতি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যাম্প বুহরিং থেকে পাঠানো ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ধ্বংস হওয়া ট্রেলার এবং একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়ি দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের চিত্র রয়েছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের দপ্তর ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কংগ্রেসে দেওয়া বাধ্যতামূলক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরঞ্জাম ও সামরিক সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে প্রায় ৬০টি উড়োজাহাজও রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার কথা জানিয়েছে। কংগ্রেসের জন্য তৈরি এই প্রতিবেদনকে এ ধরনের বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে প্রথম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

হামলায় ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই মার্কিন সেনাসদস্য বলেন, এগুলো প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়া বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ‘সুইটার্স’ নয়। গত ১ মার্চ কুয়েতের পোর্ট অব শুয়াইবায় প্রাণঘাতী হামলার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, ‘সুইটার্স’ শব্দটি তারই উল্লেখ।

১ মার্চের ওই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। সিবিএস নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ওই সেনাসদস্য বলেন, ‘আমরা এসব ঘাঁটি রক্ষা করছি না। আমরা শুধু সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছি।’

সূত্র: সিবিএস নিউজ