বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১১.৭ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত: ভেঙে পড়ছে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা

 প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ১১.৭ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত: ভেঙে পড়ছে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা

ডেক্স নিউজ:

বিশ্বব্যাপী সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ার সাথে সাথে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ৭০ লক্ষ (১১৭ মিলিয়ন) অতিক্রম করেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত-প্রতিরোধ ব্যবস্থার ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে মধ্যপ্রাচ্য

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিন, লেবানন এবং ইরানে সংঘাত তীব্র হওয়ায় কয়েক মিলিয়ন মানুষ নতুন করে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। ইউএনআরডব্লিউএ-এর তথ্যমতে, নিবন্ধিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা এখন ৫৯ লক্ষে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জর্ডানে ২৩ লক্ষ, গাজায় প্রায় ১৬ লক্ষ এবং পশ্চিম তীরে ৯ লক্ষ শরণার্থী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। লেবাননে গত মার্চ থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় ১২ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তহবিলের তীব্র সংকট ও অমানবিক জীবন

আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে “বাস্তুচ্যুতি সংকটের মুখে বৈশ্বিক শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থা” শীর্ষক প্যানেলে বক্তারা বৈশ্বিক অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি বারহাম সালিহ জানান, তহবিলের অভাবে শরণার্থীদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, "তহবিল সংকটে আমরা মাথাপিছু দৈনিক মাত্র ৯ লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছি, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ন্যূনতম প্রয়োজন ১৫-২০ লিটার।"

আশ্রয়দাতা দেশগুলোর বোঝা ও তুরস্কের ভূমিকা

আলোচনায় তুরস্কের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এক সময় তুরস্কে ৪০ লক্ষ সিরীয় শরণার্থী থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ। এছাড়া ইরান ও আফগানিস্তানের শরণার্থীদেরও আশ্রয় দিয়েছে দেশটি। চাদ, কেনিয়া, ইথিওপিয়া এবং উগান্ডার মতো দেশগুলোও তাদের সীমিত সক্ষমতা নিয়ে শরণার্থীদের জায়গা দিচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ও আহ্বান

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ শরণার্থী পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির’ শিকার। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মতো অনেক জনগোষ্ঠী দশকের পর দশক এই অনিশ্চয়তায় বাস করছে। এই সংকট সমাধানে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement