সংবাদ শিরোনাম

গাজায় ভবন ধসে নিহত ১১, ধ্বংসস্তূপে আটকা ছয় পরিবার

 প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গাজায় ভবন ধসে নিহত ১১, ধ্বংসস্তূপে আটকা ছয় পরিবার ছবি-সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনটির নিচে অন্তত ছয়টি পরিবার আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবার রাতে গাজা সিটির পশ্চিম অংশে হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। বুধবার সকালেও ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছিল। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের জীবিত ও মৃত অবস্থায় বের করে আনছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

তবে উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট। এ কারণে উদ্ধারকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও খালি হাতে কংক্রিট ও ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের কান্না ও সাহায্যের আবেদন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু কংক্রিটের ভারী স্তরের নিচে আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছাতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিওতে শ্বাসকষ্টে ভোগা এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে এ ঘটনায় আহতের প্রকৃত সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এতে ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়ে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে মঙ্গলবার রাতে সেটি হঠাৎ ধসে যায়।

তবে ভবনটি ঠিক কী কারণে ধসে পড়েছে, তা স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার অসংখ্য বাড়ি ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

এদিকে অবরুদ্ধ গাজায় ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জামের ঘাটতিও প্রকট। ফলে জরুরি মুহূর্তে উদ্ধারকারীদের অনেক সময় হাত দিয়েই ধ্বংসাবশেষ সরাতে হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে এমন ধীরগতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের জীবন রক্ষার সময় আরও সংকুচিত করে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।