সংবাদ শিরোনাম

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা ইরাকে পৌঁছে দিলেন রাষ্ট্রদূত

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা ইরাকে পৌঁছে দিলেন রাষ্ট্রদূত ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির লিখিত বার্তা ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বাগদাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ কাজেম আল-এ সাদেক। রোববার বাগদাদে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠকে এই বার্তা হস্তান্তর করা হয়।

ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে চলমান আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইরান ও ইরাক উভয় পক্ষই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের মতে, সংঘাত ও উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি।

বৈঠকে দুই পক্ষ শান্তিপূর্ণ উপায়ে আঞ্চলিক সংকটের সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক উদ্যোগকে আরও সক্রিয় করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন বলেন, সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ ও সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে সেই সমাধান এমন হতে হবে, যাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং সেসব দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা পায়।

ইরাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে চলমান আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। তারা মনে করে, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য বেশি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

ইরান ও ইরাক দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দেশ। আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের সময়ে দুই দেশই কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে আসছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আরাগচির লিখিত বার্তা হস্তান্তরের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার পথ ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সংকটের সমাধানে এমন একটি পথ প্রয়োজন, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। এ জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকের মাধ্যমে ইরান ও ইরাকের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। দুই দেশই উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হয়েছে।