সংবাদ শিরোনাম

কুর্দিস্তানে বারজানির দপ্তরে ড্রোন হামলা, তদন্তে ইরাক

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

কুর্দিস্তানে বারজানির দপ্তরে ড্রোন হামলা, তদন্তে ইরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির দপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গোয়েন্দাপ্রধানের বাড়িতে ড্রোন হামলার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। সোমবার রাতে চালানো ওই হামলার উৎস ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্থান শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরানের ভূখণ্ড থেকে দুটি ড্রোন উড়ে এসে হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান ঘটনাটিকে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সাজানো একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বারজানির কার্যালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হামলার উৎস ও উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন জাইদি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হামলার নিন্দা করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করে সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান।

বাঘাই বলেন, ইরান ও ইরাকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে শত্রুরা যে ষড়যন্ত্র করছে, তা ঠেকাতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সোমবার ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, বারজানির দপ্তরে এমন বেপরোয়া হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য সাজানো হামলার ব্যাপারে কুর্দিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কুর্দিস্তানে হামলা বেড়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হাজারের বেশি হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলের আকাশে নিয়মিত ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্য কিছু হামলায় ইরান থেকে নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠী এবং মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন সেনা, বিদেশি তেল কোম্পানি এবং ইরান থেকে নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি রয়েছে।

কুর্দিস্তান সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী দপ্তর জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তাদের দাবি, ইরান সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরকবোঝাই হাদিদ-১১০ ধরনের দুটি ড্রোন উড়ে এসে বারজানির ব্যক্তিগত দপ্তর এবং কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা পারাস্তিনের পরিচালকের বাসভবনে হামলা চালায়।

বারজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, কুর্দিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের তদন্তে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত দপ্তর ও নিরাপত্তা-গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাড়ি ইরানি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

ইরাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত টম ব্যারাক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বারজানিকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কুর্দি অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসন মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

ইরাকের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সব অস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ইরাকি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাইদির নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান ব্যারাক।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন দায়েশবিরোধী জোটের মিশন শেষ হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

ইরাকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। গত কয়েক বছরে এসব গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব বেড়েছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের পর কয়েকটি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। ২০১৪ সাল থেকে দায়েশবিরোধী লড়াইয়ের সময় তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এসব গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে এবং মার্কিন সেনাদের ঘাঁটিতে প্রায়ই হামলা চালিয়েছে। কিছু গোষ্ঠী রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরে সহযোগিতা করার কথা বললেও অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করতেই রাজি নয়।

ইরান-কুর্দি বিরোধের নতুন উত্তাপ

ইরান নির্বাসিত কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে পশ্চিমা ও ইসরায়েলি স্বার্থের হয়ে কাজ করার অভিযোগ করে আসছে। এ কারণে এপ্রিল মাসে ঘোষিত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির সময়ও তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে গেছে তেহরান। পরে ওই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর কুর্দিস্তানে থাকা এসব গোষ্ঠী তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও শিবির সরিয়ে নিয়েছে।

এর মধ্যেও গত ১৭ জুলাই কুর্দিস্তান অঞ্চলের পূর্বাঞ্চলে সুলাইমানিয়াহ শহরের কাছে ড্রোন ও রকেট হামলায় নয়জন নিহত হয়।