সংবাদ শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ: হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন দাবি

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ: হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের নতুন দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ ওড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত করার আকাঙ্ক্ষার কথাও আবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে আইআরজিসি এ দাবি অস্বীকার করেছে।

হরমুজ নিয়ে সর্বোচ্চ দাবি

হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ব্রায়ান ক্লার্ক আল জাজিরাকে বলেছেন, হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করার ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান-দুটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের দাবি।

তাঁর মতে, দুই পক্ষ এখন বাস্তবসম্মত আলোচনার বদলে নিজেদের অবস্থান জোর দিয়ে তুলে ধরছে এবং অপর পক্ষ পিছু হটার আশায় রয়েছে।

ক্লার্কের ভাষায়, ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক এখন কার্যত অকার্যকর। কূটনৈতিক তৎপরতাও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে আইআরজিসিও রয়েছে, যার প্রভাব বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য

গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চূড়ান্ত লক্ষ্য কাছাকাছি হলেও তা অর্জনের কৌশল নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের চেয়ারম্যান রব আরলেট।

আরলেট বলেন, দুই নেতাই মনে করেন গাজায় হামাসের নিরাপত্তা, সামরিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে দায়িত্ব থাকা উচিত নয়। তবে বিষয়টি কীভাবে এবং কোন ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েই তাঁদের মতভেদ।

ট্রাম্প ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমিয়ে হামাসকে নিরস্ত্র করার পক্ষে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু চান, ইসরায়েল কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করা হোক।

আরলেটের মতে, ট্রাম্পের অবস্থানের পেছনে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়টিও কাজ করছে। গাজা, ইরানসহ বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে একটি শান্তিচুক্তি করে ইতিহাসে নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান ট্রাম্প।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও দুই নেতার অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

তারপরও নেতানিয়াহু বুঝতে পারছেন যে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ’ ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আরলেট।

সূত্র: আলজাজিরা