সংবাদ শিরোনাম

সোমালিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ শহর বায়দোয়ায় তুমুল লড়াই

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

সোমালিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ শহর বায়দোয়ায় তুমুল লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর বায়দোয়ায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ের পর বিদ্রোহী যোদ্ধাদের শহর থেকে হটিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সোমালিয়ার সেনাবাহিনী।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোরের আগে সংঘর্ষ শুরু হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদিয়াজিজ হাসান মোহামেদ লাফতাগারেনের অনুগত যোদ্ধারা ফেডারেল বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালালে লড়াই শুরু হয়।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই যানবাহন ব্যবহার করেছিল। সরকারি বাহিনীর পাল্টা হামলায় ৩০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। লাফতাগারেনের বাহিনী আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংগঠন আল-শাবাবের সঙ্গে মিলে লড়াই করছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।

তবে লাফতাগারেনের পক্ষ এর আগে ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছিল, তাদের বাহিনী শহরের কেন্দ্রস্থল দখল করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, মার্চে সোমালিয়ার সেনাবাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সোমবারের সংঘর্ষই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। বায়দোয়ায় কার্যক্রম চালানো মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের বা এমএসএফ জানিয়েছে, তাদের হাসপাতালে বেশ কয়েকজন আহতকে আনা হয়েছে। শহরের দুটি এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বায়দোয়া অবস্থিত। যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত কয়েক লাখ মানুষ শহরটিতে বসবাস করছে।

রাজনৈতিক বিরোধ থেকে সংঘাত

লাফতাগারেন সাত বছরেরও বেশি সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যের নেতৃত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের উদ্যোগে সংবিধানে বিতর্কিত পরিবর্তন আনার পর মোগাদিশুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।

নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনে প্রেসিডেন্ট মোহামুদের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে ২০১২ সালের অন্তর্বর্তী সংবিধানে নির্ধারিত সোমালিয়ার ভঙ্গুর ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

এর জেরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় সোমালিয়ার সেনাবাহিনী বায়দোয়া দখল করে নেয় এবং পরে লাফতাগারেন পদত্যাগ করেন।

এরপর তাঁর অনুগত যোদ্ধারা কয়েক দফা শহরটিতে হামলা চালিয়েছে। মে মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখলের একটি চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

নতুন করে বায়দোয়ায় সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সোমালিয়ার ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে। দেশটির লাখো মানুষ অপুষ্টি ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা