রাশিয়ায় ইয়াবলোকো নিষিদ্ধ, কারাগারে উপনেতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল ইয়াবলোকোর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। একই দিনে দলটির উপনেতা লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আরেকটি আদালত।
সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাশিয়ায় বিরোধী মত দমনের ধারাবাহিকতায় এসব সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে করছেন বিরোধী কর্মীরা। তাদের দাবি, এতে দেশটির গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সংকুচিত হচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।
সোমবার ইয়াবলোকো জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তাদের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দলটি জানিয়েছে, তারা এখন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তদারকি পর্যায়ে আবেদন করবে।
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ইয়াবলোকোর ফেডারেল প্রার্থী তালিকার নিবন্ধন বাতিল করে। এর ফলে সেপ্টেম্বরের স্টেট ডুমা নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানানো একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলটি ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারায়।
ইয়াবলোকোর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ছোট একটি ক্রেমলিনপন্থী জাতীয়তাবাদী দল রদিনা। তাদের অভিযোগ, ইয়াবলোকো পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও রাশিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
ইয়াবলোকো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির দাবি, তারা লাখো রুশ নাগরিকের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে। যুদ্ধবিরোধী মানুষের জন্য তাদের বাদ দেওয়া কার্যত একমাত্র রাজনৈতিক বিকল্পটিও সরিয়ে দেওয়ার শামিল।
১১ বছরের বেশি কারাদণ্ড
দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আপিল খারিজ হওয়ার দিনই উপনেতা লেভ শ্লোসবার্গের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলার রায়ও আসে। ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতার কারণে তাঁকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে একটি দণ্ডশিবিরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্লোসবার্গকে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বাহিনী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর এসব অভিযোগে কঠোর শাস্তির সুযোগ রেখে আইন করা হয়। সেনাবাহিনীকে ‘অসম্মান’ করা বা যুদ্ধ নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয় ওই আইনের আওতায়।
এর ফলে রাশিয়ায় খুব কমসংখ্যক রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন প্রকাশ্যে যুদ্ধের সমালোচনা করছে। এর আগে মানবাধিকারকর্মী ওলেগ অরলভ এবং প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনিও আদালতে দাঁড়িয়ে সরকারের ‘স্বৈরাচার ও দমননীতি’র বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।
শ্লোসবার্গও বিচার চলাকালে নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। মামলার শেষ বক্তব্যে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়ার জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে অসংখ্য মানুষের জীবন থেমে গেছে। একসময় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ পাবে এবং সেই তালিকা দেখে পুরো জাতি শিউরে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদালতের বাইরে আটক সমর্থক-সাংবাদিক
ইয়াবলোকোর বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্ত শুনতে আসা দলটির সমর্থক ও সাংবাদিকদের কয়েক ডজনকে পুলিশ আটক করে। তাদের কয়েকজনকে কাছের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ইয়াবলোকোর মস্কো শাখার প্রধান কিরিল গনচারভ বলেন, সেদিন অনেক মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা গেছে।
আদালতকক্ষে ইয়াবলোকোর নেতা নিকোলাই রিবাকভ এসব আটকের ঘটনাকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন।
সূত্র: আলজাজিরা