সংবাদ শিরোনাম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বাড়ায় বেসামরিকদের দুর্ভোগ

 প্রকাশ: ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বাড়ায় বেসামরিকদের দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ লেবাননে গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে বেসামরিক মানুষকে-বাড়িঘর ছাড়তে হচ্ছে অনেক পরিবারকে, বদলে যাচ্ছে তাদের দৈনন্দিন জীবন।

জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, ৫ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৩৭টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে। শনিবার ২০৮টি এবং রোববার ১৮৫টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ২৬ জুনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নবায়ন হওয়ার পরও এই উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তিতে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

হিজবুল্লাহ চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা এতে সম্মত হবে না।

ইউএনআইএফআইএল এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেসামরিক মানুষ। নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার কারণে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ধরন বদলাতে বাধ্য হয়েছে।

দক্ষিণে টহল জোরদার

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও দক্ষিণ লেবাননে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী। তারা টহল ও নজরদারি করছে, সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরাচ্ছে, বিস্ফোরকজনিত ঝুঁকি কমাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সহায়তা করছে।

দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবকেই মৌলিক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউএনআইএফআইএল।

২০০৬ সালে গৃহীত ওই প্রস্তাবে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে শত্রুতা বন্ধ এবং দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সোমবার ইউএনআইএফআইএলের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। দক্ষিণে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত রাখার মতো একটি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ লেবাননে ইউএনআইএফআইএলের বর্তমান মিশনের মেয়াদ এ বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। বাহিনীটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও ম্যান্ডেট নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈরুতের সরকার দক্ষিণে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইউএনআইএফআইএলের উপস্থিতি অব্যাহত রাখার পক্ষে।

প্রত্যাহার নিয়ে অচলাবস্থা

২৬ জুনের কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা।

কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এখনো এগোয়নি। লেবানন ও ইসরায়েল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে সপ্তম দফা আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বার্ড কলেজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক জিয়াদ আবু রিশের মতে, দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্ব অব্যাহত রাখার দৃঢ়তা দেখাতে এবং হিজবুল্লাহ ও লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক হামলা চালাতেই ইসরায়েল হামলা বাড়াচ্ছে।

রিশের অভিযোগ, ইসরায়েলের নীতি শুধু হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে নয়; লেবাননের জনগণ, বিশেষ করে শিয়াপ্রধান এলাকা ও দক্ষিণ লেবাননের মানুষের ওপরও সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার মতো।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। শনিবার দুটি পৃথক বিমান হামলায় ১১ জন নিহত হওয়ার পর ২ মার্চ থেকে চালানো ধারাবাহিক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪৬ জনে।

সূত্র: আলজাজিরা